আলিফ হোসেন,তানোরঃ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নাই তিনি সভাপতি হচ্ছেন এটা নিশ্চিত। কাউন্সিলে এবার মুল আলোচনা রয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসছেন সেটা নিয়ে, তবে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় উঠে এসেছে শহীদ পরিবার ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হেনার পুত্র ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নাম। তার পিতা শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হেনা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি। সেই সুত্রে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ দলের সাধারণ সম্পাদক পদে লিটনকে নিয়ে আশাবাদি হয়ে উঠেছেন।

জানা গেছে,আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবর্তিত হয় শেখ হাসিনাকে ঘিরে। শেখ হাসিনা হলেন আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি। তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ আজকের অবস্থানে এসেছে। আর শেখ হাসিনার বড় পরিচয় হলো তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা।আওয়ামী লীগ

কেনো বাংলাদেশের প্রায় সব মানুষই মনে করেন শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগ অস্তিত্ববিহীন এবং বিবর্ণ। আওয়ামী লীগের মধ্যে এরকমও আলোচনা হয় যে, শেখ হাসিনার বিকল্প আওয়ামী লীগে এখন কেউ নেই। শেখ হাসিনার বিকল্প শুধু শেখ হাসিনাই। তবে এর মধ্যেও বঙ্গবন্ধু পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হবেন কি না, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তারা আসবেন কি না এসব নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা রকম আলাপ আলোচনা হয়। প্রতি বছর কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসবেন কিনা এ নিয়ে নানা রকম গুঞ্জন তৈরি হয়। তবে এবার আলোচনায় এসেছে রাসিক মেয়র লিটনের নাম।এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) দুইবারের সফল মেয়র। জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামরুজ্জামানের সন্তান। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যাদের বিতর্কহীন এবং শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্যেই নিবেদিত তাদের মধ্যে খায়রুজ্জামান লিটন অন্যতম। তিনি রাজশাহী কেন্দ্রিক রাজনীতি করলেও জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামরুজ্জামানের সন্তান হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব প্রতিপত্তি ও নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে। ফলে এবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি চমক হিসেবে আসতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই। এ নিয়ে দলের কেন্দ্রে নানা গুনঞ্জনও চলছে। এর পিছনে কারণ হলো একাধিক।

তিনি জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামরুজ্জামানের সন্তান এবং জাতীয় চার নেতার সন্তানদের মধ্যে এখন রাজনীতিতে একমাত্র সক্রিয়। আগে জাতীয় চার নেতার সন্তানদের মধ্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসিম সক্রিয় ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিতেন। কিন্তু এদের দুইজনের মৃত্যুর পর এখন রাজনীতিতে সক্রিয় এবং নেতৃস্থানীয় থাকা নেতা হলেন খায়রুজ্জামান লিটন। এইজন্য জাতীয় চার নেতার সন্তান হিসেবে আওয়ামী লীগে তার একটা আলাদা অবস্থান আছে। খায়রুজ্জামান লিটন অন্তঃপ্রাণ একজন রাজনীতিবিদ। রাজনৈতিক কর্মকান্ড তিনি সারা জীবন নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। দলের বিভিন্ন পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য লিটন কখনোই শেখ হাসিনার আনুগত্যের বাইরে যাননি এবং দল ও শেখ হাসিনার আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। এটি তার একটি বড় যোগ্যতা এবং শেখ হাসিনার একান্ত বিশ্বস্ত যারা আওয়ামী লীগের মধ্যে পরিচিত তাদের অন্যতম এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।এছাড়াও তার আরেকটি বড় যোগ্যতা হলো আওয়ামী লীগে তাকে নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। আওয়ামী লীগের কোন গ্রুপিং, উপদল, কোন্দল ইত্যাদি তিনি করেন না। যার ফলে এবার সাধারণ সম্পাদক পদে যদি চমক হিসেবে লিটনের নাম আসে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।এদিকে রাজশাহী অঞ্চলে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রত্যাশা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক পদে আসবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.