আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ এবং সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী বিতর্ক ও জন্জালমুক্ত, পরিচ্ছন্ন আদর্শিক নেতৃত্ব গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। উপজেলার দুটি পৌরসভা, সাতটি ইউনিয়ন (ইউপি) ও উপজেলা আওয়ামী লীগকে ভাইরাসমুক্ত করতে এ্যান্টিভাইরাস হিসেবে বিতর্কিত, বেঈমান এবং রাজনৈতিক কুলাঙ্গদের ছুড়ে ফেলে আদর্শিক ও পরিচ্ছন্নদের নিয়ে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছেন। বিশেষ করে বিগত দিনে সাধারণ নির্বাচনে এমপিবিরোধীতার নামে পৃথক এবং দলীকোন্দল সৃস্টি ও আওয়ামী লীগের চাদর গায়ে দিয়ে জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেছে, সিটিকর্পোরেসন, জেলা পরিষদ, উপজেলা,পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত করতে প্রকাশ্যে- গোপণে আওয়ামী লীগবিরোধীদের পক্ষে কাজ করেছে, যারা দলের দায়িত্বশীল পদে থেকেও দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল করতে কোনো ভুমিকা না রেখে এমপির বিরোধীতা করার নামে আওয়ামী লীগবিরোধীদের সঙ্গে সখ্যতা রেখেছে এদের চিহ্নিত করে ছুড়ে ফেলে আদর্শিক ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ সম্পন্ন নেতাকর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের এমন কমিটি গঠন করা হবে যেই আওয়ামী লীগ আগামিতে আরো ১০০ বছর দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিবে।
জানা গেছে, গত ৪ জুন শনিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল মামুনের সঞ্চালনায় ও সভাপতি গোলাম রাব্বানীর সভাপতিত্বে উপজেলা অডিটোরিয়ামেে আয়োজিত বর্ধিত সভায় ফারুক চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন,
আওয়ামী লীগ আমজনতার দল এখানে কোনো বেইমানের জায়গা হবে না , যারাই দলকে নিজেদের কুকর্ম দিয়ে কুলষিত করতে চাইবে তাদের দল থেকে বের করে দেয়া হবে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলকে এমনভাবে গঠন করতে চাই যেনো আগামী ১০০ বছর এই দল বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে পারে। এদিকে স্থানীয় নেতারা সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ উঙ্খাপন করে তাদের দল থেকে বিতাড়িত করে আদর্শিক ও নতুন নেতৃত্ব দিতে নীতিনির্ধারক মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, আওয়ামী লীগবিরোধী যতো অপশক্তির আর্বিভাব ঘটেছে সব রাব্বানী-মামুনের হাতে।
তৃণমুলের অভিযোগ, স্থানীয় সাংসদের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে গোলাম রাব্বানী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন বিএনপির প্রয়াত নেতা শীষ মোহাম্মদের সঙ্গে মুন্ডুমালা কলেজ চত্ত্বরের শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে ওয়াদা করেছিল ফারুক চৌধুরীকে আর এমপি হতে দেয়া হবে না। এখন প্রশ্ন রাজশাহীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি ফারুক চৌধুরী, তাহলে তারা কার বিরুদ্ধে বা কাকে ঠেকাতে ওয়াদা করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মানে তো প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করা। এদিকে তারা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে নাকখত দিয়ে ফের এমপির কাছে ফিরে এসেছিল। কিন্ত্ত কয়লা ধুলেই ময়লা যায় না তারা এবার শুরু করে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। এরা জাতীয় সংসদ, সিটিকর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ(ইউপি) নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধীতা করে সভা-সমাবেশ এবং কথিত সেভেন স্টার সৃস্টি করে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে সক্ষতা গড়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাহলে এরা কি আর আওয়ামী লীগ করার অধিকার রাখেন-? তারা বলেন,বলেন, স্থানীয় সাংসদের আর্শিবাদে এরা দলের দায়িত্বশীল পদে আসিন হয়ে এমপির দুই বগলের নিচে স্থান নিয় এমপির কাছে কোনো নেতাকর্মীকেই ভিড়তে না দিয়ে তারা ফুঁলেফেঁপে উঠে। অথচ দায়িত্বশীল পদে থেকেও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোনো কর্মকান্ড বা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেনি, তবে সভাপতি-সম্পাদক পরিচয় বহণ করে সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বেশ মোটাতাজা ও পকেটভারী করে আদর্শিকতার নামে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে দল, নেতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে বেঈমানী করেছে। তারা আরো বলেন, কদিন আগেও প্রকাশ্যে এমপিকে ফেরেস্তার সঙ্গে তুলনা করে গোলাম রাব্বানী চিটার-বাটপার ও দালাল বলে মামুনকে ভৎসনা করেছে। আবার মামুন দর্নীতিবাজ, বিশ্বাসঘাতক- মিরজাফর বলে রাব্বানীকে ভৎসনা করেছে। কিন্ত্ত কুড়ি বছর এমপির বগলের নিচে থাকার পর এখন এমন কি হলো যে এমপি খারাপ আর তারাই ভাল-? তৃণমুলের ভাষ্য, তারা আওয়ামী লীগের চাদর গায়ে জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এরা রাজনৈতিক বেঈমান, মিরজাফর ও কুলাঙ্গার এই অঞ্চলের মানুষ এদের ক্ষমা করবে না। এরা বাঙালী জাতির জনক ও স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ-২০২০) উদযাপন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ২১ আগস্ট গ্রনেড হামলা ও ৩রা নভেম্বর জাতীয় জেল হত্যা দিবসের কর্মসুচিতেও এরা অংশগ্রহণ করেন না। আবার তারা নিজেদের আওয়ামী লীগ বলে দাবি করেন, এখন সময় এসেছে এদের বিতাড়িত করে দলকে কলঙ্ক মুক্ত করা। এবিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম রাব্বানী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারাই আদর্শিক আওয়ামী লীগ। এবিষয়ে যুবলীগ নেতা আফজাল হোসেন বলেন, গোলাম রাব্বানী, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইমরুল হক ও সাইদুর রহমান এরা বেঈমান-বিশ্বাসঘাতক ও মিরজাফর এদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ করা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.