ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদের এই আনন্দকে আরও রঙিন করতে চিত্ত বিনোদনের বিকল্প নেই।

আর একটু বিনোদনের জন্য মানুষ ছুটে যায় শহর থেকে গ্রামে, নদীর পাড় অথবা কোলাহলমুক্ত প্রকৃতির মাঝে।

সিরাজগঞ্জে এবারের ঈদে বিনোদনপ্রেমীদের জন্য অনন্য রূপে আবির্ভূত হয়েছে প্রকৃতি কন্যা যমুনা। রূপালি জলের কলকল রব, খোলা আকাশের নির্মল বাতাস মাতিয়ে রাখবে দর্শনার্থীদের। এ বছর ঈদের খুশিকে আরও রঙিন করে তুলবে যমুনা।
 
সিরাজগঞ্জ শহরবাসীর কাছে এক সময়ের অভিশপ্ত হিংস্র যমুনা নদী এখন অত্র এলাকার বিনোদনপ্রেমীদের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনায় যমুনার পাড় অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ২০০০ সালে যমুনার ভাঙনরোধে শহর ঘিরে নির্মাণ করা হয় আড়াই কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ। বাঁধের উত্তর দিকের মোহনায় অর্ধবৃত্তাকার হার্ড পয়েন্ট নির্মাণ করা হয়। তখন থেকেই এ বাঁধটি ছিল সিরাজগঞ্জের মানুষের বিনোদনের একমাত্র স্থান।  

এই বাঁধের জেলখানা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় সিরাজগঞ্জ পৌরসভার তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে শিশুদের বিনোদনের জন্য শহীদ শেখ রাসেল শিশু পার্ক। তার উত্তরপাশে গত ২০২১ সালের ৭ মার্চ স্থাপন করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বই ভাস্কর্য ‘মুজিব দর্শন’।  

২০১৭ সালে পানির গতিপথ পরিবর্তনের লক্ষ্যে যমুনা নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ থেকে আড়াআড়িভাবে চারটি পয়েন্টে চারটি ক্রসবার নির্মাণ করা হয়। এ ক্রসবারগুলোর দৈর্ঘ্য এক থেকে পৌনে ২ কিলোমিটারের মতো। ১ ও ২ নম্বর ক্রসবার মূল বাঁধ থেকে লম্বালম্বিভাবে যমুনার মাঝখানে গিয়ে শেষ হয়েছে। ৩ ও ৪ নম্বর ক্রসবার একইভাবে মূল সড়ক থেকে যমুনার মাঝামাঝি স্থানে যাওয়ার পর একটি দক্ষিণে অপরটি উত্তরে মোড় নিয়ে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।  

এসব বাঁধ এখন বিনোদনপিয়াসী মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শহীদ শেখ রাসেল শিশুপার্ক এবং অদূরেই নবনির্মিত মুজিব দর্শন ভাস্কর্য উন্মুক্ত এই বিনোদনকেন্দ্রের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তাই ছুটির দিনসহ যেকোনো অবসর সময়ে সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের জেলার মানুষগুলোর গন্তব্যস্থল হয় যমুনার পাড়। প্রতিদিনই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে যমুনার বুকের চারটি ক্রসবার ও শহর রক্ষা বাঁধ।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা সূত্র জানায়, এবারের ঈদে বিনোদনপ্রেমীদের বাড়তি আনন্দের স্থান হবে তিন ও চার নম্বর ক্রসবার। বর্ষায় নব যৌবনপ্রাপ্ত যমুনার বুক চিড়ে বের হয়ে যাওয়া এ বাঁধ দুটির মিলিত অংশ আরও আকর্ষণ করছে প্রকৃতি প্রেমীদের।  

ঈদ ছাড়াও যেকোনো ছুটির দিনে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত থাকে এ বাঁধগুলো। এর পাশ দিয়ে চলে নৌকা। দর্শনার্থীরা নৌকায় করে যমুনার বুকে ঘুরে বেড়ায়। ছুটির দিনে প্রকৃতির একরাশ স্নিগ্ধ বাতাস পেতে এখানে ছুটে আসে হাজারো মানুষ।

সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ডা. জহুরুল হক রাজা বলেন, এক সময় প্রমত্তা যমুনা নদীর হিংস্রতায় তটস্থ ছিল সিরাজগঞ্জ। কিন্তু পর্যায়ক্রমে বাঁধগুলো নির্মাণ হওয়ায় একদিকে যমুনার ভাঙন থেকে শহর রক্ষা হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে যমুনার পার। সরকারের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনায় ধ্বংসাত্মক যমুনাকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্মল বিনোদনের স্থান তৈরি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জকে রক্ষার জন্য নির্মিত হওয়া এসব বাঁধগুলোকে পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাউবোর অর্থায়নে বাঁধের উপরে কয়েক মিটার পরপর নির্মাণ করা হয়েছে বসার আসন। এছাড়াও ক্রসবার বাঁধগুলোতে সবুজ বনায়নের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। তিন নম্বর ক্রসবারের মাঝামাঝি স্থানে বাচ্চাদের জন্য রাইডার স্থাপন করা হয়েছে।  

তিনি বলেন, যমুনার পাড় হবে নির্মল বিনোদনের কেন্দ্র সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বো

Leave a Reply

Your email address will not be published.