মুছাম্মৎ রোকেয়া আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলা বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কথিত সাংবাদিক ফারজানা আক্তার কর্তৃক গত ৪ জুলাই জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় ও অনলাইন নিউজ ভার্সনে “নারী সাংবাদিককে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৭জুলাই) বিকালে দৈনিক পূর্বকণ্ঠ ও সাপ্তাহিক দিনেরগান পত্রিকার কুলিয়ারচর অফিসে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কুলিয়ারচর বাজার মহল্লার বিমল চন্দ্র সাহার ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দুলাল চন্দ্র সাহা বলেন, দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে নারী সাংবাদিক ফারজানা আক্তারের দায়ের করা কুলিয়ারচর থানার সাধারণ ডায়েরী নং-১৩৬৮ এর বিবরণের কথা উল্লেখ করে সংবাদটি প্রকাশ করিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দুলাল চন্দ্র সাহা প্রকাশিত এ সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, গত ২৯ জুন ২০২২ ইং তারিখ কুলিয়ারচর থানায় দাখিলকৃত সাধারণ ডায়েরী নং- ১৩৬৮ তে ফারজানা আক্তার লিখেছে, আমার সাংবাদিকতার পাশাপাশি আমি ও বিবাদী দুজনই একই মার্কেটে পোশাক ব্যবসায়ী ছিলাম। সেই সূত্রে তার সাথে সুসম্পর্ক ছিলো। কিন্তু কোন কারনে তার বনিবনা সৃষ্টি হলে সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের সাথে আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার দিতে থাকে এবং প্রায়ই আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ করে এবং হুমকি দেয়। গত ২৪ মে বিষয়টি সমাধান হয়। ইদানিং সে আবারো একই কর্ম করে আসছে।

কিন্তু গত ৪ জুলাই দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় “নারী সাংবাদিককে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখি কোন কথাই ১৩৬৮ নং সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ নেই দাবী করে ব্যবসায়ী দুলাল চন্দ্র সাহা বলেন, ফারজানা আক্তার মনগড়া মতো পত্রিকায় আমার নামে এসব মিথ্যা কথা লিখিয়েছে। কেননা এসব অভিযোগে আমার জানা মতে থানায় সাধারণ ডায়েরী নেওয়ার আইনগত কোন নিয়ম নাই। এসব ঘটনা যদি সত্যি হতো তাহলে নিয়মিত মামলা হওয়ার কথা ছিলো। এতেই প্রমাণ হয় কুলিয়ারচর পৌর এলাকার বড়খারচর মহল্লার মৃত আব্দুর রাশিদ এর কন্যা কথিত নারী সাংবাদিক ফারজানা আক্তারএকজন মিথ্যাবাদী ও প্রতারক।

মূলতঃ কুলিয়ারচর বাজারে ফারজানা আক্তারের কাপড় দোকানের পাশাপাশি আমার একটি বড় কাপড় ব্যবসা থাকার সুবাদে সাংবাদিক ফারজানা আক্তার আমার সাথে প্রথমে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে ব্যবসা করার জন্য আমার নিকট থেকে ৫ লক্ষ টাকা ধার (কর্জ) নেয়। পরে আমাকে সাংবাদিকতা শিখিয়ে একটি সনামধন্য জাতীয় পত্রিকা থেকে আমার নামে একটি কার্ড এনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ও কাপড় ক্রয়ের অজুহাতে সে আমাকে নিয়ে আমার খরচে ভারতসহ বাংলাদেশের, ঢাকা, ইসলামপুর, বাবুর হাট ও ভৈরবসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে যায়। ঘুরাঘুরির এক পর্যায়ে আমার সাথে তার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফারজানা আক্তার বিভিন্ন কৌশলে আমার সাথে হাসি মজাকের ছলে কৌশলে আমাদের বিভিন্ন প্রকার ছবি তুলে আমাকে ব্লেকমেইল করে বলে আমার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে তাকে বিবাহ করার জন্য। এ জন্য সে আমাকে বার বার চাপ সৃষ্টি করে। আমার সন্তান থাকায় এতে রাজী না হওয়ায় সে আমাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে বলে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল করে দিবে এবং আমার বিরুদ্ধে মামলা করে আমাকে হয়রানি করবে। এসব ভয় ভীতি দেখিয়ে সে আমার নিকট থেকে বিভিন্ন কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন একাধিক পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে। এতে বাঁধা নিষেধ দিয়ে ভালো পথে আনার চেষ্টা করায় আজ আমি তার কাল হয়ে দাড়িয়েছি। বর্তমানে সে আমাকে এরিয়ে চলছে এবং আমার বিশ্বাস ভঙ্গ করে আমার টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতারণা করে আসছে। আমি সনাতন ধর্মাবলম্বী একজন নিরীহ মানুষ। তাহার নিকট থেকে আমার পাওনাকৃত টাকা আদায় করাতো দূরের কথা বর্তমানে তাহার হুমকি ধামকির ভয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আমি এলাকা ছাড়া হয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্যত্র জীবনযাপন করছি।

ফারজানা আক্তার জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার কুলিয়ারচর – বাজিতপুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং কালের নতুন সংবাদ এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করার সুবাদে সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে আমার টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে সে প্রতিদিনের সংবাদ ও কালের নতুন সংবাদ সহ বিভিন্ন পত্রিকাকে ব্যবহার করে সে নিজে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ লিখে তা প্রকাশ করিয়ে আসছে। আমি প্রকাশিত সংবাদগুলোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এসব ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.