নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের ২৫/৩০টি ইউক্যালিপ্টাস গাছ কেটে নিচ্ছে স্থানীয়রা। উপজেলার ৫০ নম্বর শিমুলদাইড় দক্ষিণপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে বাধা দিলেও কোন লাভ হচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন বলছে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এদিকে বিদ্যালয় মাঠ থেকে সব গাছ কেটে সাবাড় করায় স্থানীয়রো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শিমুলদাইড় দক্ষিণপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোকলেছুর রহমান জানান, শনিবার থেকে বিদ্যালয় মাঠের গাছগুলো কাটা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৬/২৭টি ইউক্যালিপ্টাস গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ১৯৯১ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হয়। ৯২/৯৩ সালে গাছগুলো লাগানো হয়েছে। স্কুলটি সরকারী হয়েছে ২০১৩ সালে।অথচ সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বেলাল দাবী করছেন স্কুলের জায়গা তাদের পরিবারের, এজন্য তার নির্দেশেই গাছগুলো কেটে নেয়া হচ্ছে। আমরা অনুরোধ করলেও তিনি মানেননি।

এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বেলাল জানান, স্কুলের নিজস্ব ৯ শতক এবং আমাদের পরিবারের রেকর্ডকৃত ২৩ শতক মিলে মোট ৩২ শতক জায়গায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠ হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ২৩ শতক জায়গা এখনও দলিল করে নেয়নি। আমার বড় ভাই ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন, তাই আমরা ওই সম্পত্তি নিয়ে কোন আপত্তি করিনি। কিন্তু ভাই মারা গেছে, এখন আমরা ওই সম্পত্তির অর্ধেক অংশে নিজেরা স্থাপনা করবো, তাই গাছগুলো কাটা হচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আগেই জায়গাটা নিজেদের নামে দলিল করে নিলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরী হতো না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারী স্কুলের গাছ কাটা কোনক্রমেই আইন সিদ্ধ নয়। ঘটনাটি জানার পরই সহকারী শিক্ষা অফিসারকে সরজমিন তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী রবিবার বিকেলে জানান, স্কুলটি সরকারীকরণ করার সময় জায়গার দলিল সংক্রান্ত প্রসঙ্গটি হয়তো হাইড করা হয়েছিল। গাছ কাটার বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত পূর্বক অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.