মুছাম্মৎ রোকেয়া আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলা বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এক প্রবাসীর ভবন নির্মাণে বাঁধা ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাটি কাটা গ্রামের মৃত কুদ্দুস রুহুল আমিনের ছেলে ইতালি প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম মিরন (৪৪) অভিযোগ করে বলেন, তিনি ইতালি থেকে ছুটিতে বাড়ি আসিয়া প্রায় ৪ মাস পূর্বে তার পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে একটি তিনতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ভবনের প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর গত ১৭ জুন- ২০২২ ইং তারিখ শুক্রবার বিকালে তার প্রতিবেশী মৃত চান্দ মিয়ার ছেলে স্থানীয় ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব সাফি উদ্দিন আহমেদ (৭৫), তার ছেলে মো. মাজহারুল হক জিতু (৫২) ও মো. রফিকুল ইসলাম টিটু (৪৮), মৃত মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান (৫৭) ও মো. ইমরানুর রহমান পাপ্পু (৪৭) মিলে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম মিরন এর নির্মাণাধীন ভবনে অনাধিকার প্রবেশ করিয়া ভবণ নির্মাণে বাঁধা নিষেধ দেয়। বাঁধা নিষেধ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা ওই প্রবাসীকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিয়ে বলেন, এখানে তাদের জায়গা আছে। ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ না করলে ওই প্রবাসীকে জীবন দিয়ে তার মাশুল দিতে হবে। এর দুই দিনপর গত ২০ জুন- ২০২২ ইং তারিখ প্রতিপক্ষ সাফি উদ্দিন আহমেদ, মিজানুর রহমান ও মো. ইমরানুর রহমান বাদী হয়ে ইতালি প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম মিরনকে প্রধান বিবাদী করে ৭ জনের নামে কুলিয়ারচর সহকারী জজ আদালত (বাজিতপুর চৌকি), জিলা- কিশোরগঞ্জ- এ একটি মোকদ্দমা অন্য প্রকার নং- ১০৮/২০২২ ইং দাখিল করে। মোকাদ্দমায় প্রতিপক্ষ উল্লেখ করেন, গত ১৮ জুন ২০২২ ইং তারিখ প্রতিপক্ষের দখলীয় জায়গা বেআইনি ভাবে বেদখল করে ওই প্রবাসীসহ মোকাদ্দমায় উল্লেখিত বিবাদীরা।

আশরাফুল ইসলাম মিরন দাবী করেন প্রায় দেড়শত বছর ধরে তার পূর্বপুরুষরা এ জায়গা ভোগ দখল করে আসছে। অবশেষে তার দখলে আসলে প্রায় ৪ মাস পূর্বে এ জায়গায় সে তিনতলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করেন। তিনি সকলের কাছে প্রশ্ন রাখেন, প্রতিপক্ষের দাখিলকৃত মোকদ্দমায় উল্লেখিত জোর জবরদখলের তারিখ (১৮ জুন-২০২২ইং) অনুযায়ী ১৭ দিনে কি ভাবে তিনতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব? প্রতিপক্ষের দাখিলকৃত মোকাদ্দমা ও কুলিয়ারচর থানায় দাখিল করা সাধারণ ডায়েরির ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবী করে এসব সাধারণ ডায়েরি ও মোকাদ্দমার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে অন্যায় ভাবে হয়রানী করার বিচার দাবী করে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

গত ৬ জুলাই বুধবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবনটির নির্মাণ কাজ প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হয়ে গেছে। কথা হয় প্রবাসীর প্রতিবেশী চাচা হামিদুল্লাহ (৯০) ও বড় ভাই মো. জহুরুল আমিন খোকন (৭০) সহ প্রতিবেশী নাছির উদ্দিন (৫৫), মো. লিটন মিয়া (৩২), আফরোজ আলম (৪৫), বকুল মিয়া (৫৩), মো. মোস্তাফিজ (৩৫) ও মো. আসাদ মিয়া (৪৫) দের সাথে। তারা বলেন, সাফি উদ্দিন আহমেদ একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। তার সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এলাকার বহু লোকের বিরোধ আছে। এছাড়া ইতালি প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম মিরন তার জায়গায় প্রায় ৪ মাস পূর্বে তিনতলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করার পর সাফি উদ্দিন আহমেদ গংরা ওই প্রবাসীকে ভবণ নির্মাণে বাঁধা নিষেধ দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্যায় ভাবে হয়রানী করে আসছে। এসময় ভবন নির্মাণ শ্রমিক মো. মাইন উদ্দিন (৪০), আক্তার হোসেন (৩৫), খায়রুল (২০), শুভ (২০) ও রনি মিয়া (২২) বলেন, তারা প্রায় ৪ মাস আগে এই তিনতলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ভবনের নির্মাণ কাজ প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে।

মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ সাফি উদ্দিন আহমেদ বলেন, যদি হুমকি ও ভবন নির্মাণে বাঁধা দিতাম তাহলে এত বড় বিল্ডিং নির্মান করলো কি ভাবে? তারাতো অনেক আগেই ঘর নির্মাণ করে ফেলেছে। আমি আদালতে উচ্ছেদের মামলা করেছি। কুলিয়ারচর থানায় একটি জিডি করেছি। মাননীয় আদালতে দাখিকৃত মোকাদ্দমায় উল্লেখিত জায়গা জোর জবরদখলের ঘটনার ১৭ দিনে বিবাদীরা এত বড় ভবন নির্মাণ করলো কি ভাবে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা করতে হলে একটি তারিখ লিখতে হয় বলে ওই তারিখ লিখেছি। ঘটনার তারিখ যদি মিথ্যা হয় তাহলে মামলাটিওতো মিথ্যা এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আদালত সিদ্ধান্ত নিবেন।

প্রতিপক্ষের মো. মাজহারুল হক বাদী হয়ে প্রবাসীর নামে কুলিয়ারচর থানায় সাধারণ ডায়েরি করার কথা স্বীকার করে ছয়সূতী ইউনিয়নের বিট অফিসার এসআই মো. সাইফুল্লাহ বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.