মুছাম্মৎ রোকেয়া আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলা বিশেষ প্রতিনিধিঃ

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের নোয়াগাঁও বেপারীপাড়া মহল্লায় সাবেক কাউন্সিলর ও বর্তমান কাউন্সিলরের দু’গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় উভয় পক্ষের ৫ নারীসহ অন্তত ৩০জন আহত হয়েছে। হামলায় একটি গার্মেন্টস কারখানা ও দোকানঘরসহ ১০টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, গত রোববার (২৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুলিয়ারচর পৌর এলাকার নোয়াগাঁও বেপারীপাড়া মোড় বালুরচরে বর্তমান ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হুমায়ুন কবির নূরীর সমর্থক আল-আমিন (৩০) এর দোকানে ঝালমুড়ি খেতে যায় একই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অলি উল্লাহ’র ছেলে আলবি (১৬) ও ভাতিজা জনি (২২)। এসময় তাদের মধ্যে ঝালমুড়ি নিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষের রূপ নেয়। সংঘর্ষে জনি স্টোর নামে একটি ঝালমুড়ির দোকানসহ বেশ কয়রকটি দোকান ভাংচুর হয়। এতে উভয় পক্ষের ৬/৭ জন আহত হয়। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় সোমবার (২৬ জুন) রাতেই সাবেক কাউন্সিলর অলি উল্লাহ সমর্থিত মো. জলিল মিয়া বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনের নামে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

পরদিন সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে আহতদের মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির নূরীর ভাতিজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে বর্তমান কাউন্সিলরের উত্তেজিত সমর্থকরা সাবেক কাউন্সিলর সমর্থিত বেশ কয়েকজনের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।

এব্যাপারে ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অলি উল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সোমবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা রাতে ঝালমুড়ি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বর্তমান কাউন্সিলর হুমায়ুন কবিরের লোকজন আমার ছেলে ও ভাতিজাসহ আমাদের লোকজনের উপর হামলা করে মারধোরসহ দোকানপাট ভাংচুর করে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করায় প্রতিপক্ষ বর্তমান কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির নূরী ক্ষিপ্ত হয়ে একটি দাঙ্গা সৃষ্টির লক্ষে প্রচার করতে থাকে হামলায় আহত তার ভাতিজা হাবিবুর রহমান মারা গেছে। পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে এমন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ভাবে সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে আমাকেসহ আমার পরিবারের সদস্যদের মারাত্মক ভাবে ক্ষতি করতে মঙ্গলবার (২৭ জুন) সকাল ১১টার দিকে হুমায়ুন কবির নূরী নিজে উপস্থিত থেকে তার লোকজন দিয়ে আমাদের মহল্লায় হামলা চালিয়ে আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট ও মারধোর করে। এ সময় হুমায়ুন কবিরের লোকজন আমার পক্ষের সানাউল্লাহর গার্মেন্টস কারখানাসহ মুসলিম, স্বপন, শাহজাহান, ইব্রাহীম, কালাম, আব্বাস, শফিকুল ও রফিকের বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। বাধাঁ দিতে গেলে হুমায়ুন কবিরের লোকজন বাধাঁকারীদের উপর চড়াও হয়ে হামলা ও মারধোর করতে থাকে। দু’দিনের হামলার ঘটনায় আমার পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ফুল মিয়া (৫৫), অনিক (২৮) ও বাদল (৪৮) কে বাজিতপুর ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে আহত অবস্থায় হেলাল মিয়া (৪৫), নূরজাহান বেগম (৬২), জলিল মিয়া (৪৫), ফায়জুল (২৮), ছাব্বির (২২), মুল্লুকচান (৫২), হালিমা (৩৫) ও মুসলিম (৪০) কে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে প্রতিপক্ষ আমাদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে বর্তমান কাউন্সিলর মো. হুমায়ুন কবির নূরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আল-আমিনের ঝালমুড়ি দোকানে আগত নারী কাস্টমারদের ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় সাবেক কাউন্সিলর অলি উল্লাহ’র লোকজন আল-আমিনকে মারধরসহ তার দোকান ভাংচুর করে। এসময় আমার ভাতিজা হাবিবুর রহমান (১৭) এগিয়ে গেলে তাকে মারধোর করে মারাত্মক ভাবে জখম করে। হাবিবুর রহমান বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। প্রতিপক্ষের দু’দিনের হামলায় আল-আমিনসহ আমার পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় কবির, সোহেল মিয়া, ফজলু মিয়া, রিপন মিয়া, সেলিম মিয়া ও রবি মিয়া নামে ৬ জনকে বাজিতপুর ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় লিটন, ওবায়দুল, গর্ভবতী ঝুমা আক্তার ও কুলসুমকে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। আরো কেউ আহত আছে কিনা এখনো বলা যাচ্ছেনা।

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত কুলিয়ারচর থানায় কোন প্রকার মামলা রুজু হয়নি বলে জানা গেছে।

এই ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ঝালমুড়ির নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইটি গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনার পর থেকে ঘটনা স্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *