নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী শামীম আশরাফ বাবলুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলার প্রতিটি উপজেলায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

জেলা শহরের সরকারি কলেজের সামনে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা বাবলু হত্যা মামলার আসামি সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লিটন মিয়াসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এ সময় বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি শরীফ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান গাদ্দাফি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম, সাধারণ শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক প্রমুখ। একই দাবিতে শহরের ভোকেশনাল মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বাবলু হত্যার বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলার ৯ উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে ছাত্রলীগ। প্রধান সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে ও বিক্ষোভ মিছিল করে নেতা-কর্মীরা।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাবলু শুধু ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন না, সে শিক্ষার্থীও ছিল। তাকে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের সামনে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর শহরের গবা মোড়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে উপজেলা ছাত্রলীগ। সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা প্রণয় সরকার প্রিতম, রফিকুল ইসলাম রফিক, জাকিউল ইসলাম পিনু, সাকিব হাসান সাদ্দাম, বিশাল সরকার সূর্য, মাহবুবা খাতুন প্রমুখ।

জানা গেছে, বাবলুর বাবার সঙ্গে এক গৃহবধূর সম্পর্কের অভিযোগ এনে গত ২৮ জুন রাতে সালিস করেন বেলগাছা ইউপির চেয়ারম্যান লিটন মিয়া। সালিসে তাঁর পরিবার উপস্থিত না হওয়ায় বাবলুর বাড়িতে ওই গৃহবধূকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান ও কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় বাবলুরা ওই নারীকে ঘরে প্রবেশে বাধা দিলে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁদের ওপর হামলা হয়। ফলে মাথায় ও বুকে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন বাবলু। গত বুধবার তিনি মারা যান।

ওই ঘটনায় বাবলুর বড় ভাই মশিউর রহমান বাবু বাদী হয়ে বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান লিটন মিয়াসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-সাতজনের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় বুধবার মামলা করেন। এ ঘটনায় গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.