image 336461

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করাসহ নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে কোনোভাবে কেউ যেন আচরণ না দেখায় সেজন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ২০টি আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইসি আলমগীর।

 

 

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে, সে সমস্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো আমাদেরকে জানিয়েছেন। সেখানে আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে কিছু সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আপনাদের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যান, এবং যেকোন নাশকতামূলক পরিস্থিতি যেন না ঘটে এজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। বিভিন্ন তথ্য একে অপরকে শেয়ার করার জন্য বলা হয়েছে, যেন অন্যান্য সংস্থা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারে এবং কোনো ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে।’

 

প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলো ঠিকমতো প্রচার করতে পারবে কি না, ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না, তাদের পোলিং এজেন্ট কাজ করতে পারবেন কি না- এসব বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেছেন সভায় অংশগ্রহণকারীরা। তাদেরকে কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আপনারা নিজেরা সেখানে থাকবেন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে এজেন্ট দিবেন, কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসারকে জানাবেন। প্রিজাইডিং অফিসার সমাধান না করতে পারলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে সদস্যরা থাকবে তাদেরকে জানাবেন, তারা সহায়তা করবে।’

 

দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দল অসহযোগ আন্দোলন ডাক দিয়েছে, এক্ষেত্রে প্রার্থী এবং আপনারা শঙ্কিত কিনা? জবাবে ইসি আলমগীর বলেন, ‘প্রার্থীরা শঙ্কিত নয়, বরং তারা আরও আমাদের ভরসা দিয়েছেন, তারা বলছেন এই আন্দোলনের সঙ্গে জনগণের কোনো যোগসাজস নেই। আর আমাদের মধ্যে কোনোই শঙ্কা নেই।

 

জ্বালাও পোড়াও বাড়লে কী করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমি ১৪টা জেলা ঘুরে এলাম। এমন কিছু দেখি নাই। যা দেখি মিডিয়ায় দেখি। স্বাভাবিক জীবনযাপন দেখেছি। মানুষ ভোটকে অনেক উৎসাহের সঙ্গে দেখেছি। নানা রকম মিছিল দেখেছি। সভা করতে দেখেছি। কিন্তু আমি কোনো নির্বাচনের বিপক্ষে কোনো অনুষ্ঠান বা কথা আমি দেখিনি।’

 

পুলিশ কী ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা বলেছে? জানতে চাইলে ইসি আলমগীর বলেন, ‘তারা ক্ষমতাসীন দল ও তার স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, ইতিবাচক অর্থে উত্তেজনামূলক হবে বলেছে। আমেরিকা নির্বাচনে তো র্যার, পুলিশ থাকে না। এবার যেহেতু একটা দল আসছে না, তাদের পক্ষ থেকে নির্বাচন বাতিলের একটা হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সেটার একটা চ্যালেঞ্জ আছে। এগুলোকে মোকাবেলা করে কিভাবে নির্বাচন করা যায়, এবং ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে আসে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে আনন্দমুখর পরিবেশ আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *