received 897004598616425

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং রোজ শনিবার রাজশাহী জেলার অন্তর্গত গোদাগাড়ী উপজেলার ৮ নং বাসুদেবপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে অভয়া বাজার (কামার পাড়া) অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙ্গে চেয়ার, টেবিল,আসবাবপত্র ঘর থেকে বের করে বাইরে ছুরে ফেলেন অত্র ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং অফিসের মালিক মোঃ আব্দুল হান্নান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান সেই সময় উপস্থিত ছিলেন ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ তসিকুল ইসলাম। তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানাজানি হলে আসপাশের এলাকার বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকরা ঘটনাস্থানে ছুটে আসেন। এক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ৮নং বাসুদেব পুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল হান্নানের উপর ক্ষিপ্ত হয় স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা। আক্রমণত্ব হয়ে বিএনপির নেতা কর্মীরা হান্নানকে মারার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের বাধার কারনে আর কোনো প্রকার আঘাত করতে পারেনি বিএনপি নেতা এবং ঘর মালিক হান্নানকে।

ঘটনা সুত্রে যানা যায় রাজশাহী জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য, সাবেক গোদাগাড়ী উপজেলা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ মাহফুজুর রহমান (ডালিম) গত ২০ (বিশ) বছর যাবত উক্ত ঘরের মাালিক আব্দুল হান্নান কে নিয়মিত মাসিক ভাড়া পরিশোধ করে ঘর ব্যবহার করে আসছেন।খোঁজ নিয়ে জানা যায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুকূলে না থাকার কারনে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এড়িয়ে চলার জন্য দীর্ঘ ২ মাস যাবত ডালিম এলাকার বাইরে অবস্থান করার কারণে অফিস তালাবদ্ধ ছিল সেই সুযোগে ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল হান্নান নিজ হাতে তালা ভেঙ্গে চেয়ার,টেবিল, আসবাবপত্র সহ বিভিন্ন নেতাকর্মীদের ছবি বাইরে ছুড়ে ফেলে। যুবদল নেতা ডালিম বলেন আমাকে না জানিয়ে অফিস থেকে চেয়ার টেবিল বিএনপির ফটো বাইরে ছুড়ে ফেলাটা কতটা সমুচিত। ডালিম আরও বলেন আব্দুল হান্নান একজন বিএনপি নেতা হয়ে এ ধরনের ব্যাবহার খুবই দুঃখজনক আমি এর তিব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানায়। বিএনপি অফিসের সবকিছু বের করে ভেঙে দিয়ে তালা মারা নিয়ে জনমনে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় বিএনপি সহ সাধারণ জনগণ। বিএনপির পক্ষ থেকে জানা যায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান কোনদিনই প্রকৃত বিএনপির লোক ছিলোনা। এরশাদের শাসন আমলে জাতীয় পার্টি করতো পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ এবং বর্তমান কথিত বিএনপি করে।

জনমনে প্রশ্ন সারা দেশে যেখানে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে গন গ্রেপ্তার চলছে,একজন সাধারণ বিএনপির সমর্থক পর্যন্ত বাড়িতে ঘুমাতে পারছেনা মাঠে, ঘাটে,জঙ্গলে ঘুমাচ্ছে সেখানে ইউনিয়ন সভাপতি হয়ে কিভাবে বাড়িতে আরাম আয়েশ করে ঘুমাতে পারে এবং দিবালোকে বাজারে বসে আড্ডা দিতে পারে, প্রশ্ন গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির।

গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপি পরিবারের অভিযোগ গত ২ মাস যাবত গ্রেফতার হয়ে জেলখানায় আছেন মোঃ মুনসুর রহমান বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ও বাসুদেবপুর ইউনিয়ন ছাত্র দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নাজমুল হোসেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তার বা তাদের পরিবারের কোন খোঁজ খবর নেওয়া হয়নি।

আরও যানা যায় গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং মঙ্গলবার বাসুদেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মানিক মেম্বার ও সহ-সম্পাদক ছাত্র বিষয়ক মোঃ মেসবাহুল হক সোহেল আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামিলীগে যোগদান করেছেন। গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির অভিযোগ এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে অন্য দলে যোগদান এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের পরেও এখন পর্যন্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেননি বিএনপি সভাপতি। শুধু তাই নয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন আগে আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামিলীগে যোগদান করেছেন কিন্তু আজ অব্দি তার বিযয়েও কোন ধরনের পদক্ষেপ নেননি গোদাগাড়ী উপজেলা (সভাপতি) বিএনপি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *