গুরুদাসপুর(নাটোর)প্রতিনিধি:

বর্ষার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে চলনবিলসহ নদী,খাল,বিল উন্মুক্ত জলাশয়ে শুরু হয় দেশীয় প্রজাতির ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা মাছ ধরার মহোৎসব। মৎস বিভাগের উদাসীনতা ও প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় বাজারে প্রকাশ্যে চলছে মা ও পোনা মাছ বিক্রির দুম। একশ্রেনীর অসাধু জেলে নিষিদ্ধ কারেন্ট,বাদাই ও চায়না জাল দিয়ে দেশীয় প্রজাতির ডিমওয়ালা মা মাছসহ পোনা মাছ নিধন করছে। এতে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে দেশীয় মাছ।

বুধবার(২৭ জুলাই)সকালে ১০টার দিকে সরেজমিন চলনবিলকেন্দ্রীক নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা,খুবজীপুর,চাঁচকৈড়,কাছিকাটাসহ বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা দেছে প্রতিদিন সকাল বিকাল বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে পোনা মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ বিক্রি হচ্ছে। যে মাছগুলো নিষিদ্ধ চায়না,কারেন্ট জাল,বাদাই জালসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে শিকার করা। অবাধে দিনরাত চলছে মা ও পোনা মাছ শিকার।

বুধবার গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে বোয়াল মাছের পোনা প্রতিকেজি ২০০,টেংরা ২৫০, পাতাশি ৩০০,শিং ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তাছাড়া ডিমওয়ালা টেংরা ৬০০,বড় শিং মাছ ৬০০,দেশী কৈ ৫০০,বড় গুচি ৫০০ টাকায় প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে। বড় আকৃতির মা মাছের পেট ডিম ভর্তি।

বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আকবর আলী বলেন, বর্ষা শুরু হলে জুন-জুলাই মাসে চলনবিলেসহ নদী খাল,বিল উন্মক্ত জলাশয়ে মা মাছ ডিম ছাড়ে। এসময়টাতে মাছ ধরা একেবারেই নিষিদ্ধ। ১৯৫০ সালের মৎস্য আইন অনুযায়ী যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু কেউ আইনের তোয়াক্কা করছে না। এভাবে ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন করা হলে চলনবিল থেকে দেশি প্রজাতির মাছ একদিন হারিয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মোবাশ্বির হোসেন বলেন, মা ও পোনামাছ নিধন বন্ধে সপ্তাহব্যাপী প্রচারাভিযান চলছে। আমরা নিষিদ্ধ কারেন্ট,বাদাইসহ চায়না জালে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন জানান,ডিমওয়ালা মা মাছসহ পোনামাছ নিধন বন্ধে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.