চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঁদা দাবির অভিযোগে এসএম রুবেল নামে এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রুবেল দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। জানা গেছে, এক আগে পৌর এলাকার হরিপুর পাওয়ার হাউস মোড়ের সাদিকুল ইসলামের ছেলের বাল্যবিয়ে হয়। বিষয়টি জানার পর কথিত সাংবাদিক এসএম রুবেল সাদিকুল ইসলামের কাছে চাঁদা চেয়েছিল। চাঁদা না পেয়ে প্রশাসনকে তথ্য দেয়। তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সাদিকুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন শরিফ এই জরিমানা আদায় করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সাদিকুল ইসলামের ছেলে আজিম আলী (১৭) ও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরিদপুরে এনতাজুল হকের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাতুন খাতুনের। শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাদিকুল ইসলামকে জরিমানা করা হয়। এসময় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাদাবি করায় আটক করা হয় এসএম রুবেল নামের ওই কথিত সাংবাদিককে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন শরিফ বলেন, এসএম রুবেল নামের একজন কথিত সাংবাদিক আমাদেরকে তথ্য দেন, গত একমাস আগে একটি বাল্যবিয়ে হয়েছে এবং আজকে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে বাল্যবিয়ে হয়েছে এটার প্রমাণ পাওয়া গেলেও অনুষ্ঠান আয়োজনের তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। পরে বরের বাবার কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় রুবেলের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাদাবির অভিযোগ করেন সাদিকুল ইসলাম।

মো. রুহুল আমিন শরিফ আরও বলেন, জরিমানা আদায়ের সময় সাদিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার কাছে কথিত সাংবাদিক এসএম রুবেল চাঁদা চেয়েছিল। চাঁদা না পেয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়েছেন। পরে সাদিকুল ইসলাম কথিত সাংবাদিক এসএম রুবেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর মডেল থানার ওসির সাথে পরামর্শ করে তাকে আটক করে থানায় প্রেরণ করা হয়। পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি মোজাফফর হোসেন জানান, এসএম রুবেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.