তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরে গোপণে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির কথিত সভা আয়োজন করায় উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থব সভাপতি গোলাম রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুন, তানোর পৌর মেয়র ইমরুল হক ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমানকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরুচোক নানা গুন্জন।
জানা গেছে, গত শনিবার তানোর পৌর মেয়র ইমরুল হকের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে পৌর ভবনে আয়োজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির কথিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি গোলাম রাব্বানী। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুন্ডুমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম ওরফে পাপুল সরকার। তবে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য স্থানীয় সাংসদ, দুই নম্বর সদস্য জেলার সহসভাপতি শরিফ খাঁন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিযর সহসভাপতি ও কলমা ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী, সহসভাপতি সুনিল দাস, যুগ্ম-সম্পাদক রামকমল সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক ওহাব হোসেন লালু, দপ্তর সম্পাদক জিল্লুর রহমান, নির্বাহী সদস্য সাইদুর রহমান সরকার আবু সাঈদ, উপেজলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ কমিটির ৬১ জন সদস্যর মধ্যে কমপক্ষে ৫০ সদস্য জানেন না সভার কথা। তাহলে এই সভা কি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভার স্বীকৃতি বা মর্যাদা পাই ?
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়,আগামি ১৫ জুলাই শুক্রবার উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে
কার্যনির্বাহী কমিটির প্রস্তুতি সভা বলা হলেও এদিন বক্তারা শুরু থেকেই স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নাসহ মুলস্রোতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করে বক্তব্য রাখেন। এমনকি সাংসদকে প্রতিহত ও আগামি সাধারন নির্বাচনে তার মনোনয়ন ঠেকানোর কথা বলা হয়। সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে রাজনীতিতে থেকে সরাতে উপস্থিতদের আরো ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান। এখন প্রশ্ন হলো এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কার লোক, তারা আওয়ামী লীগের দলীয প্রতিক নৌকা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর নৌকার মালিক দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিকে যারা নির্বাচিত তারা তো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীরই প্রতিনিধি। তাহলে যারা তাদেরকে নিয়ে মানহানিকর কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও রাজনীতি থেকে সরাতে বা তাদের মনোনয়ন ঠেকাতে চাচ্ছেন তারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রধানমন্ত্রীর বিরোধীতা করছেন তাই নয় কি। আর মনোনয়ন কি তাদের কথায় হয় তাহলে তারা এমন কথা বলার সাহস পায় কোথা থেকে। তাছাড়া কাউন্সিল প্রস্ত্ততি সভায় এসব আলোচনা কার স্বার্থে এতে কি আওয়ামী লীগ উপকৃত না ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ? তাহলে যারা দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে দলবিরোধী এসব কর্মকান্ড করে তারা কি আর আওয়ামী লীগে রয়েছে। তাদের এমন গিবদ চর্চা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। কাউন্সিল প্রস্ত্ততি সভায় কাউন্সিল বিষয়ে
তেমন কোনো বক্তব্য না দিয়ে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলের দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে কটাক্ষ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দেয়ায় রাব্বানী-মামুনের বিরুদ্ধে তৃণমুলে এসব ক্ষোভ-অসন্তোষ ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সুত্রপাত হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি গোলাম রাব্বানী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সভা নয় এমনিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে চা চক্র
করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.