তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী। এমপি হবার খোয়াব দেখে রণেভঙ্গ দিয়ে দীর্ঘদিন তিনি আলোচনার বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তার ভারত সফর নিয়ে জনমনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন, প্রতিনিয়ত গুঞ্জনের ডালপালা মেলছে। আগামি ১৬ জুন সম্মেলন তার আগে এমন সফরে তার দায়িত্বশীলতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়াও রাষ্ট্রিয় সফরে আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত জনদের সঙ্গে নিয়ে যেতেই পারেন। অথচ তার অর্বাচিন অনুগতরা বলছে, ভারত সরকারের আমন্ত্রণে রব্বানীর ভারত সফর, সেখানে নদীশাসন, ফারাক্কা সমস্যা, মিলেমিশে রাজনীতি এসব বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে। স্থানীয়রা জানান,গোলাম রাব্বানীর অনুগত কিছু অর্বাচীন এটাকে তার রাষ্ট্রিয় সফর বলে প্রচার করায় জনমনে এসব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সুত্রপাত হয়েছে। জানা গেছে, রাস্ট্রিয় সফর করেন রাস্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, এমপি, সরকারী আমলা, ব্যবসায়ী, শিল্পী-সাহিত্যিক প্রমুখ। এদিকে আগামি ১৬ জুন সম্মেলনে পদ ধরে রাখতে ও পদ পেতে নেতাকর্মীরা যখন নীতি-নির্ধারক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণেে মরিয়া,তখন রাব্বানীর বিদেশ ভ্রমন আগামিতে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ারই বার্তা এতে তার অনুগত কর্মী-সমর্থকরা হতাশ ও দিশেহারা। অন্যদিকে গত ২৫মে গভীর রাতে নিজ গ্রাম প্রকাশনগরে রাব্বানী তার অনুসারীদের নিয়ে বৈঠক করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাব্বানীের
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, তানোর পৌর মেয়র ইমরুল হক, মুন্ডুমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, রেবুল, বিজেন কর্মকার, রেজাউল ইসলাম, জাহিদুর রহমান, মসলেম উদ্দিন, আনোয়ার সাদাৎ, সেলিম রেজা, সোহেল রানা, আকতার হোসেন,রাজিব সরকার হিরো, আব্দুল ওহাব, অপূর্ব হালদার ,মাইনুল ইসলাম রানা, মাসুম রেজা, আবুল বাসার ও বাচ্চু প্রমুখ। সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগামী ১৬ জুন আমাদের অগ্নি পরীক্ষা, আজ আমাদের শপথ নিতে হবে, এদিন থেকে এমপির রাজনীতির পতন ঘটাতে। তারা কেন্দ্রের নির্দেশে আগামী ১৬ জুন ভোটের মাধ্যমে পুনরায় থানা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। আর ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণ না করলে সম্মেলন হতে দেয়া যাবে না। তারা বার্তা নিয়ে ২৬মে বৃহস্প্রতিবার ঢাকায় যাবেন। এসময় সকল নেতাকর্মীকে মিষ্টি মুখ করিয়ে বলেন,
আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে ফারুক চৌধুরীকে আসল ও পুরাতন আওয়ামী লীগ আমরা, আমাদের হাত কত শক্ত, এবং আমরাই নির্বাচিত হবো আগামীতে উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এদিন পর থেকে এমপির পায়ের নিচের মাটি থাকবে না, জয় আমাদের হবে ইনশাল্লাহ্। অন্যদিকে তানোর পৌর মেয়র ইমরুল হক ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান বলেন, এমপি ফারুক চৌধুরীর কারণে তারা এলাকার উন্নয়ন করতে পারছেন না, আগামিতে আমরা তার পরিবর্তে জননেতা রাব্বানী ভাইকে এমপি করে দেখিয়ে দিতে চাই আমরা প্রকৃত আওয়ামী লীগ, তারা অনুপ্রবেশকারী এবং এখানো অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে রাজনীতি করছেন তাদের পক্ষে কোনো নেতাকর্মী নাই। সভায় কেন্দ্রীয় এক নেতার সঙ্গে লাউডস্পিকারে (অপরপ্রান্তে অজানা) কথা বলেন। কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দলীয় পদ ধরে রাখতে ও আগামি নির্বাচনে এমপি মনোনয়ন নিশ্চিত করতে এই সফরে তদ্বির করতে হবে। এই প্রলোভন দেখিয়ে ফের অনেকের ঘটি-বাটি,গরু-ছাগল বিক্রির অর্থ হাতিয়েছে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। আবার অনেকে বলছে পাওনাদার এড়াতে আইওয়াশের কৌশল।
স্থানীয়রা বলছে,দলে বিদ্রোহীদের মদদদাতা হিসেবে পরিচিত সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তারা দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ের মধ্যে তারা দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কোনো ভুমিকা তো রাখেন নি বরং দলে কোন্দল সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিটি নির্বাচনে সরাসরি নৌকার বিরোধীতা করেছেন। এবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কোন বিতর্কিত ও নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোন ব্যক্তিকে পদে তো দুরে থাক প্রার্থীও হতে পারবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে রাব্বানীর এক ঘনিষ্ঠ সহচর জানান, গোদাগাড়ীর সম্মেলনের পর মামুনকে মাইনাস করে গোলাম রাব্বানী একাধিকবার গোপনে এমপির কাছে গিয়ে নিজের পদ ধরে রাখতে নানা অনুনয়-বিনয় করছেন।এসব কারনে রাব্বানী-মামুন মতবিরোধ চরমে। এদিকে তার অনুগত মুন্ডুমালা বাজারের এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বলেন, রাব্বানী পৌরসভা নির্বাচন না করে নিজের অস্থিত্বের উপর আঘাত করেছে। তার জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল মুন্ডুমালা পৌরসভার ভোট না করা ও সরাসরি নৌকাবিরোধী অবস্থান নেয়া।ওদিকে সম্পাদক মামুনের এক সহচর জানান, এমপির সঙ্গে মামুনের কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। রাব্বানী বিরোধিতা করলেও মামুন এমপির সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু রাব্বানী উপজেলা চেয়ারম্যানের স্বপ্ন দেখিয়ে মামুনকে তার দিকে টেনে নিয়ে শুরু করে এমপির সঙ্গে দ্বন্দ্ব। কিন্ত্ত রাব্বানী পদ ধরে রাখতে এখন এমপির কাছে মামুন ছাড়াই ধরনা দিচ্ছেন, মামুনকে আরো আগে বোঝা উচিৎ ছিল রাব্বানী নিজের স্বার্থে রাজনীতি করে। তারা নিজের স্বার্থে নৌকা ডোবাতে হাতুড়ি, জগ, মগ, নারিকেল গাছ, তাল গাছ, গাব গাছ, মোটরসাইকেল ইত্যাদি প্রতিকের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট করে এটা সকলের বোঝা উচিৎ।
এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.