তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে
সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল মামুনকে আটক (একঘরে) রাখার গুঞ্জন। স্থানীয়রা জানান, সমাজবিরোধী কাজের অপরাধে অভিযুক্তদের সমাজপতিরা যেমন সমাজচ্যুৎ বা (একঘরে) করে, তেমনি রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করার অভিযোগে রাব্বানী ও মামুনকে রাজনীতিচ্যুৎ বা (একঘরে) করেছে তৃণমুল। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাদের দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের একচ্ছত্র আধিপত্যর অবসানের মধ্য দিয়ে অগ্যস্ত যাত্রা (চিরদিনের জন্য প্রস্থান) হতে চলেছে। এদিকে এসব কারণে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখন তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মসুচি করতে পারেন না, কেউ কোনো রাজনৈতিক কর্মসুচিতে তাদের আমান্ত্রণ করে না আবার তারা উপযাচক অংশগ্রহণ করতে গেলেও নেতাকর্মীরা সেটা মেনে নিতে পারেন না।
জানা গেছে, এক সময় বিভিন্ন দিবসের শুভেচ্ছা-অভিনন্দন ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে এই দুই নেতার মধ্যে প্যানা-পোষ্টার নিয়ে
রীতিমত প্রতিযোগীতা হয়েছে। কিন্ত্ত প্রায় তিন বছর ধরে এই দুই নেতার কোনো প্যানা-পোষ্টার চোখে পড়েনি। এমপিবিরোধীতার নামে এরা নৌকার বিরোধীতা করতে গিয়ে রাজনৈতিক ভাবে এতোটাই দেউলিয়া যে প্যানা-পোষ্টার সাঁটাতে পারছে না,আবার কোথাও বসে নেতাকর্মীর সঙ্গে এক চা পান করবেন নেই সেই অবস্থাও। নীতিনৈতিকতা বিবর্জিত রাজনীতি আর লাইনচ্যুৎ ট্রেন যে বেশীদুর যেতে পারে না সেটা তারা হাড়ে হাড়ে টেড় পাচ্ছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়েছিল। অথচ তাদের দায়িত্ব ছিল বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানো, তবে তারা কৌশলে স্বতন্ত্র তকমা লাগিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে গো-হারা হেরেছে।এঘটনায় তৃণমুলের নেতাকর্মীরা তাদের দল থেকে বহিস্কারের দাবি করেছেন। তৃণমূলের অভিযোগ স্থানীয় সাংসদের আর্শিবাদে এরা দলের দায়িত্বশীল পদে আসিন হয়ে এমপির দুই বগলের নিচে স্থান নিয় এমপির কাছে কোনো নেতাকর্মীকেই ভিড়তে না দিয়ে তারা ফুঁলেফেঁপে উঠে। অথচ দায়িত্বশীল পদে থেকেও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেনি, তবে সভাপতি-সম্পাদক পরিচয় বহণ করে সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বেশ মোটাতাজা ও পকেটভারী করে আদর্শিকতার নামে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে দল, নেতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে বেঈমানী করেছে। এমনকি বাঙালী জাতির জনক ও স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ-২০২০) উদযাপন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রনেড হামলা দিবসের প্রতিবাদ কর্মসুচিতে অংশগ্রহণ করেননি। তবে কমিটি গঠনের খবরে ২০২২ সালে এসে তারা নড়েচড়ে উঠে। কিন্ত্ত এখানেও সেই একই কাসুন্দী ১৫ আগস্ট, ১৭ আগষ্ট ও ২১ আগষ্টের কর্মসুচি দিয়ে সেখানে এসব দিবসের ওপর কোনো বক্তব্য না দিয়ে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত হয়ে এমপি, উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ দলের আদর্শিক নেতাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা।
এদিকে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের জন্য ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন কার্যক্রমে তৃণমূলের দাবী যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও বেঈমানী করে জাতীয় সংসদ, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো ভূমিকা রাখেনি এমনকি গোপণে আওয়ামী লীগবিরোধীদের সঙ্গে সখ্যতা করেছে তারা যত বড় মাপের নেতা হোক এবার আওয়ামী লীগের কমিটিতে তাদের জায়গা হবে না। এমনকি কমিটি গঠনের আগে দলে শুদ্ধি অভিযানের দাবি করেছে তৃণমুল।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম রাব্বানী এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুন উপজেলা চেয়ারম্যানের খোয়াব দেখে এমপি ফারুক চৌধূরীর বিরোধীতা ও পৃথক বলয় সৃষ্টির নামে দলীয়কোন্দল সৃষ্টি ও আওয়ামী লীগের খোলস পরে জামায়াত-বিএনপির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের বি-টিম হয়ে কাজ করেছে। তারা এমপির বিরোধীতার নামে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে মাঠে নেমে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের কাছে টানতে ব্যর্থ হয়ে রাজনীতিতে ‘বাঁবুই ভেঁজা’ (সবকিছু থেকেও নাই) হয়ে পড়েছে। তৃণমূলের ভাষ্য, রাব্বানী এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশা করে এক সময় মাঠে নগদ নারায়ন (টাকা) ছড়িয়ে এলাকার কিছু জনবিচ্ছিন্নদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তার মোহ সৃষ্টি করে ছিলেন। কিন্ত্ত যেই টাকা ছড়ানো বন্ধ অমনি মোহের হাটে ভাঙ্গন মোহ আর বাস্তব পরস্পরবিরোধী সেটা এখন তিনি হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছেন। তৃণমূলের অভিমত, তার পরিকল্পনা ছিল নির্বাচনের মৌসুমে মনোনয়ন প্রত্যাশী দাবি করে কিছু টাকা-পয়সা ছড়িয়ে কিছু জনবিচ্ছিন্নদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তার মোহ সৃষ্টি করে এমপি ফারুক চৌধূরীর ওপর অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারলেই তাকে দ্বিগুন মূল্য দিয়ে কাছে টানবে, এমপিকে জিম্মি করে রাজনীতি করাও হবে। তবে ফারুক চৌধুরী জিম্মি হবার মানুষ নয় তারা সর্বস্ব হারিয়ে সেটা উপলব্ধি করছে। ওদিকে নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এমপি ফারুক চৌধূরী এখানো তাদের কাছে না টানায় তাঁদের সেই স্বপ্ন ও পরিকল্পনা উবে গেছে। একদিকে অর্থ সংকটে তারা না পারছেন মাঠে নামতে, অন্যদিকে এমপি তাদের না ডাকায় না পারছেন এমপির কাছে যেতে, অর্থাৎ সবকিছু হারিয়ে এখন তারা নিজ ঘরেই পরবাসি বা ‘বাঁবুই ভেঁজা’ হয়ে পড়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আবার আব্দুল্লাহ আল-মামুন উপজেলা চেয়ারম্যানের খোয়াব দেখলেও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে নৌকার বিজয় ঠেকাতে নৌকাবিরোধীদের পক্ষে কাজ করেছে। কিন্তু তাদের বেঈমানী ও বিশ্বাসঘাতকতার পরেও নৌকার বিজয় ঘটেছে আর নৌকার বিজয়ের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রাব্বানী-মামুন অধ্যায়ের সূর্যাস্ত হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক অদুরদর্শিতার কারণেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের ঝড়ের গতিতে উঙ্খান ও টর্নেডোর গতিতে পতন হয়েছে বলে অভিমত তৃণমূলের। রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্ত্ত এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরোধীতার নামে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে সরাসরি প্রকাশ্যে নৌকার বিপক্ষে ভোট করার পর নৈতিকভাবে সেই নেতৃৃৃৃত্ব
আর আওয়ামী লীগ থাকে না। কারণ নৌকার মালিক এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যান নয় নৌকার মালিক
স্বয়ং দলের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই যারা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে থেকেও প্রকাশ্যে নৌকার বিপক্ষে ভোট করেছে তারা সরাসরি দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে ভোট করেছে। এসব বিবেচনায় তাদের আওয়ামী লীগে থাকার কোনো যোগ্যতায় নাই। এক ক্ষুরে মাথা মোড়ানোদের (একই দলভুক্ত)
দিন শেষ হতে চলেছে। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।#

Leave a Reply

Your email address will not be published.