মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা ফলাফল গত সোমবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় । সদ্য প্রকাশিত ২০২২ সালের এ পরিক্ষার ফলাফলে দিনাজপুরের শিক্ষানগরী চিরিরবন্দরের আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল দিনাজপুর জেলাসহ বিভাগ ও বোর্ডে সেরা ফলাফল অর্জন করেছে।

জানা গেছে, উপজেলার আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ২০২২ সালে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরিক্ষায় ১৬৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১৬৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হয়। পাশের হার শতভাগ।

উল্লেখ্য, বিগত বছরের ১জন ছাত্র ইমপ্রুভ (মানোন্নয়ন) পরীক্ষা দেয়ার কারনে তাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৬৭ জন। কিন্তু ২০২২ সালে নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল ১৬৬ জন।

ওই বিদ্যালয়ের পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের কঠোর অনুশীলন ও অভিভাবকগণের সার্বিক সহযোগিতায় এ কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, যদিও শ্রেণি বিভাগ করা হয়না, তারপরও গোপনে করা ফলাফলে চিরিরবন্দরের আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল জেলাসহ বিভাগ ও বোর্ডে প্রথম স্থান, দিনাজপুর জেলায় আমেনা বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ২০৫ জনে ২০১ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হয়ে ২য়, দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫২ জন অংশগ্রহণ করে ২১৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হয়ে ৩য় ও বিরামপুর উপজেলার আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ৪র্থ, দিনাজপুর জিলা স্কুল ৫ম, পার্বতীপুর খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এ- কলেজ ৬ষ্ঠ, সেতাবগঞ্জ আইডিয়াল একাডেমি ৭ম, বীরগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ৮ম, বীরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় ৯ম ও দিনাজপুর সেন্ট ফিলিপস স্কুল ১০ম স্থান অধিকার করেছে। সকল প্রতিষ্ঠানের ফলাফল শতভাগ।

চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খালিদ হাসান জানান, অত্র চিরিরবন্দর উপজেলায় পড়াশোনার পরিবেশ খুব ভাল। বেশ কয়েকটি বেসরকারি ভাল মানের স্কুল হওয়ায় এ উপজেলাকে শিক্ষানগরী হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাছাড়াও উপজেলার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বেশ ভাল।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ছেলেদের পাসের হার ৮০ দশমিক ৭৭ শতাংশ, মেয়েদের ৮১ দশমিক ৫৫ শতাংশ৷ এ বোর্ডে মোট পাসের হার ৮১ দশমিক ১৬ শতাংশ।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। চলে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন পরীক্ষার্থী ছিল।এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন পরীক্ষার্থী ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don`t copy text!