নরসিংদী জেলা থেকে



নরসিংদীর রায়পুরার চরসুবুদ্ধির মহিষভেড় বল্লবপুর এলাকায় নদী ভাঙনে ফসলি জমি, গবাদি পশু সহ প্রায় ১০টি বসতঘর ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও ভাঙন আতঙ্কিত হয়ে বেশ কিছু পরিবারকে এলাকা ছাড়তে দেখা গেছে।
শনিবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এ গ্রামের দুই কিলোমিটার অংশে মেঘনার ভাঙন শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পর থেকে নদীপারের দুই হাজার বাসিন্দা আতঙ্কে দিন পার করছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২২জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পানির প্রবল ¯স্রেতে ভাঙন অব্যাহত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের মেঘনাপারের মহিষভেড় ও বল্লবপুর গ্রামের দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কয়েক বিঘা ফসলি জমিসহ ১০টি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত আট বছরের ব্যাবধানে গ্রামটির কয়েক শত পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। বাস্তহারা পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তারা আরও জানান, সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে নদীতে ভাঙন শুরু হয়। মুহুর্তেই বিলীন হয়ে যায় ৫টি বসতঘর। পরে রাতেই মসজিদের মাইকে ভাঙনের কথা বলা হলে স্থানীয়রা দ্রæত এগিয়ে আসলে ঘুমন্ত কয়েকজনকে নিরাপদে সড়িয়ে আনা হয়। তবে ঘরের ভিতর থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার সহ আসবাবপত্র বের করে আনা সম্ভব হয়নি। নদীর পারে থাকা আরোও বেশ কয়েকটি ঘর ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার সকালে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন ইউপি চেয়ারম্যান হাজি নাছির উদ্দিন।
এদিকে নদীপারের অনেক পরিবার তাদের ঘর, আসবাপত্র ও গবাদি পশু সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মহিষভেড় এলাকায় ভাঙনের শিকার সাফিয়ার পরিবার খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। এ সময় তার ছেলের টিনের ঘরটি ভাঙন থেকে বাঁচাতে সরিয়ে নেওয়া চেষ্টা করছেন।
কথা হয় সাফিয়া বেগম নামে এক বৃদ্ধার সাথে। তিনি বলেন, রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। উঠে দেখি ঘরের এক পাশ ধেবে যাচ্ছে। পরে দ্রæত নাতিসহ স্বামী-স্ত্রী ঘর থেকে বের হয়। এ সময় চোখের পলকে ঘরটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পাশের গোয়ালঘরসহ দুটি গাভিও নদীতে ভেসে গেছে। সহায়সম্বল হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছি।
চরসুবুদ্ধি ইউপি সদস্য হারুন সরকার জানান, আগে একবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে গেছে। বর্ষা মৌসুমে এলেই নদী ভাঙনে অনেক জমি ও বসত ভিটা বিলীন হয়ে যায়। এখানে একটি গ্রামরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে মেঘনার ভাঙন থেকে মহিষভেড় গ্রামবাসি রক্ষা পাবে।
রায়পুরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন জানান, খোঁজ নিয়ে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসাবে চাল, ডাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজগর হোসেন বলেন, যাদের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারীভাবে তাদের নতুন আশ্রয়নের ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Don`t copy text!