বেলহাজ উদ্দিন বাঁধন (বড়াইগ্রাম)
নাটোরের বড়াইগ্রামে চার শতাধিক পরীক্ষার্থীকে বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বেতন বকেয়া থাকার কারণে প্রধান শিক্ষক নবম শ্রেণী ব্যাতিত সব পরীক্ষার্থীর খাতা ও প্রশ্ন কেড়ে নিয়ে হল থেকে বের করে দেন। যেসব শিক্ষার্থীর বেতন পরিশোধ আছে তাদেরকেও পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নাহিদ উদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, বৃহস্পতিবার পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী সকাল ১০টায় ৬ষ্ঠ ৭ম ৮ম ও ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হয়। এর পর আকস্মিক প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান পরীক্ষার হলে এসে কোন কোন শিক্ষার্থীর বেতন পরিশোধ করেনি জানতে চান। এ সময় বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বেতন বকেয়া আছে বলে স্বীকার করে। এতে রাগান্বিত হয়ে প্রধান শিক্ষক খাতা ও প্রশ্ন কেড়ে নিয়ে সব পরীক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেন। অভিভাবক রঞ্জিত কুমার কুন্ডু বলেন, যেসব পরীক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের বেতন বকেয় রয়েছে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এ ক্ষেত্রে যাদের বেতন পরিশোধ করা রয়েছে তাদেরকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়া উচিৎ হয়নি।
এ ছাড়া বেতন আদায় করার জন্য এরকম আচরণ রীতিমতো স্বেচ্ছাচারিতা ও আপত্তিকর।

প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান তিনি বলেন, আমাদের তিন শতাধীক শিক্ষার্থী বেতন ও পরীক্ষার ফি্ পরিশোধ করেনি। শেষ পরীক্ষা দিনেও তারা পরিশোধ করেনি। তাই পরীক্ষা একদিন পিছিয়ে রোববার করা হয়েছে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষকের ভাগ্নী জামাই ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা নাজনীন সুলতানার স্বামী আবুল কালাম আজাদ বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বেতন বোকেয়া রয়েছে। তাদের মানসিক চাপের কথা চিন্তা করে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করে রোববার করা হয়েছে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রউফ জানান, ঘটনাটি সরকারী বিধিমালার পরীপন্থী। প্রধান শিক্ষক এভাবে পরীক্ষা বন্ধ করতে পারেন না। আগামী রবিবার জেলা মাধ্যমিক অফিসার স্যারের সাথে মিটিং করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don`t copy text!