received 393875953353924

তরিকুল ইসলাম,
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

পল্লী জনপদ রংপুর একটি আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত আবাসিক এলাকা। যার অবস্থান রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ামত পান্ডারদিঘী গ্রামে। পল্লী জনপদ হাউজিং সোসাইটি নামেও পরিচিতি পেয়েছে এটি। অনেকে আবার রাঙার প্রজেক্ট নামেও চেনে।

বলছিলাম মামুন ভাইয়ের লাইব্রেরীর কথা। কারমাইকেল কলেজ থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করা মামুন ভাই এই জনপদে একজন বাসিন্দা। তার উদ্যোগেই গড়ে উঠেছে লাইব্রেরীটি। পরিবার পরিজন (বাবা,মা,ভাই বোন ও স্ত্রী সন্তান) নিয়ে এখানেই বসবাস করেন তিনি।

জনপদে উঠার পর থেকেই একটা লাইব্রেরী গড়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে এখন হিমসিম খেয়ে হচ্ছে তাকে। লাইব্রেরীর জন্য কোন স্হায়ী রুমের ব্যবস্হা করতে না পারলেও জনপদের একটা অস্থায়ী রুমেই চলছে তার কার্যক্রম।

ধীরে ধীরে তার লাইব্রেরীতে বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৫ টিতে। সব শ্রেণির পেশার মানুষের জন্য উন্মুক্ত তার লাইব্রেরী। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বাচ্চাদের পড়ার জন্য তিনি বই দিয়ে থাকেন। বাচ্চারাও অধীর আগ্রহ নিয়ে তার দেওয়া বইগুলো নিয়ে যায় পড়া শেষে আবারও জমা দেয়। এতে করে বাচ্চাদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ যেমন বাড়ছে তেমনি কমছে মোবাইল, টেলিভিশনের প্রতি আসক্তি।
প্রতি শুক্রবার তিনি পল্লী জনপদের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে একটি ছোট্ট ম্যাসেস দেন ” বই দেওয়া হচ্ছে “। খবর শুনে বাচ্চারা যথাসময়ে হাজির হয় লাইব্রেরীতে। বাচ্চাদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় মামুন ভাই। বাচ্চারা তাকে মামুন আংকেল বলেই ডাকে।

গত শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পল্লী জনপদের বার্ষিক মিলনমেলায় কথা হয় তার সাথে। ছোট্ট একটি প্লাস্টিকের গোল টেবিলে তার সংগ্রহ করা বইগুলো নিয়ে বসে আছেন তিনি। খেলাধুলা, গল্প গুজব নিয়ে যখন সবাই ব্যস্ত তখন মামুন ভাই বই নিয়ে বসে আছেন মাঠে। এখানে বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকে মেলায় অনেকে আসবে তাই আমি এখানে বই গুলো নিয়ে এসেছি। সবাই জানবে আমার লাইব্রেরীর কথা, তারাও আসবে লাইব্রেরীতে। এক সময় লাইব্রেরীতে অনেক বই থাকবে, বসার জায়গা থাকবে।

তার এসব কথা শুনে ভালো লাগলো। তিনি বললেন ভাই, আপনি তো লেখা লেখি করেন দেখেন না লাইব্রেরীটার জন্য কিছু করা যায় কি না। বাচ্চাদের জন্য বইয়ের সংকুলান আছে। বাচ্চারা আমার কাছে বিভিন্ন ধরণের বই চায়। আমি তাদের চাহিদা মত বই দিতে পারি না, তখন খুবই খারাপ লাগে। দেখেন না কারে কাছে বাচ্চাদের জন্য কিছু বই নেওয়া যায় কি না।

বললাম, দেখি কি করা যায়। মনে মনে ভাবলাম বাচ্চাদের জন্য ১০ টি বই ক্রয় করে লাইব্রেরীতে দিব। আমার পাশেই ছিলেন মতিউর ভাই, তিনিও কিছু বই লাইব্রেরীতে দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। মতিউর ভাইয়ের মত ব্যক্তিরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে একদিন মামুন ভাইয়ের লাইব্রেরী গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ।

মামুন ভাই বলেন, আমার সামর্থ্য থাকলে একাই সব বই ক্রয় করে লাইব্রেরীতে রাখতাম! সাধ আছে সাধ্য নাই এমনটিই তিনি বুঝাতে চাইলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *