নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে রাজশাহীর মেয়ে হিমুর বাৎসরিক আয় প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে তারই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অবস্থান অন্যতম।

সানজিদা জান্নাত হিমুর সাথে সাক্ষাতকারে জানা যায়, সে রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার মেয়ে। মা – বাবা ২ বোন ও ১ ভাই এর পরিবারে হিমুই সবার ছোট। তার বাবা একজন ফল ব্যবসায়ী। করোনা ভাইরাসের লকডাউনে তাদের ব্যবসা খারাপ চলছিল। কোভিড-১৯ এর সময় প্রথম দিকে বাসায় বসে ছিল। সেই সময় ফেসবুকে, Moukhara IT Center এর ফ্রিলান্সিং এর কোর্স এ ভর্তি হয় ২০২১ সালের মে মাসে সে ফ্রিলান্সিং এর ডিজিটাল মার্কেটিং এর ওপরে কোর্স করে। ৩ মাসের কোর্স এর পরে তাকে আর বেকার বসে থাকতে হয় নি। ফাইবার, আপওয়ার্ক মার্কেটপ্লেসে তার অর্ডার আসতে থাকে। তার বাৎসরিক আয় প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা । সে আরো বলে, মেয়েদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং একদম নিরাপদ। ঘরে বসে পর্দার আড়ালে থেকে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী আয় করা যায়। বর্তমান চাকরির বাজার কঠিন হওয়ায়, চাকরির পিছনে না দৌড়িয়ে নিজেই উদ্যোক্তা হতে শিখুন। হিমু নিজে একজন নিবন্ধিত ফ্রিলান্সার।

সানজিদা জান্নাত হিমুর বাবা বলেন, প্রথমে আমার মেয়ে অনলাইনে আয়ের কথা বলে কম্পিউটার কিনে । কিন্তু আমরা প্রথমে বিশ্বাস করিনি যে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা যায়। বর্তমানে আমাদের পরিবারের খরচ আমার ছোট মেয়ে বহন করে।

আউটসোর্সিং আয়ে বাংলাদেশ ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে। কম খরচ ও ঝুঁকি বিবেচনায় ইউরোপ-আমেরিকা তথা উন্নত বিশ্বের অনেক বড় কোম্পানি এখন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে আউটসোর্সিং করছে। এতে বাংলাদেশ হয়ে উঠছে ফ্রিল্যান্সিং কর্মসংস্থানের বড় উৎস।

অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট- ওআইআই’র তথ্যমতে, অনলাইন শ্রমিক সরবরাহে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ দেশ। বর্তমানে এ দেশের নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার রয়েছে ছয় লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ নিয়মিত কাজ করছে।

বাংলাদেশের আইসিটি ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, তারা বার্ষিক ১০ কোটি ডলার আয় করছে। অনলাইন শ্রমিক সরবরাহে বিশ্বের শীর্ষ দেশ ভারত। বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সার শ্রমিকের ২৪ শতাংশই ভারতের, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার বিশ্বের ১৬ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.