received 928460665134224

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বাঁশখালী প্রতিনিধি।

বাঁশখালীর পৌরসভার সামনে বেকারীতে কথা কাটাকাটির জেরে হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘাতক গ্রেফতার। শো-রুমের পশ্চিমে মায়ের দোয়া ফুড প্রোডাক্টস নামক বেকারীতে শাহ আলম নামে এক শ্রমিক খুন হয়। তাকে লাটি, হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পুলিশ তাৎক্ষণিক লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে মামলা রুজু করার সাথে সাথেই আসামী গ্রেফতার করতে অভিযানে নামে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে ঘটনাস্থলের বস্তুগত আলামত সংগ্রহ, স্থানীয় ও বেকারীর কর্মচারীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থল হইতে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস, বেকারিতে কর্মরত কর্মচারীদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আচরণ পর্যালোচনা করি। পর্যালোচনায় ধৃত আসামী মাহাবুবুর রহমান (৩০) উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে সত্যতা পাওয়ায় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ধৃত আসামীকে পলাতক অবস্থায় কক্সবাজার জেলা পেকুয়া থানাধীন মগনামা বাজারে অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামী কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুনরায় প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামীর অবস্থান নির্ণয় করে বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী স্বীকার করে যে, আসামী দীর্ঘদিন ধরিয়া উক্ত বেকারীতে চাকুরী করতো। বেকারীতে কর্মরত শ্রমিকদের
মধ্যে একের অধিক মহিলা শ্রমিক কর্মরত ছিল। এরই মধ্যে একজন মহিলা শ্রমিকের সাথে ভিকটিম শাহ আলমের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক আসামী মাহাবুবুর রহমান বারংবার বাঁধা দেয়ায় গত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ভিকটিম শাহ আলম ও আসামী মাহাবুবুর রহমানের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়। উক্ত ঘটনার কারণে ক্ষোভের বর্শবর্তী হইয়া পূর্বপরিকল্পিতভাবে শুক্রবার ফজরের নামাজের সময় বেকারীতে আসামী মাহাবুবুর রহমান প্রবেশ করে ভিকটিম শাহ আলমকে ঘুমন্ত অবস্থায় গাছের গুড়ি দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাতের মাধ্যমে রক্তাক্ত জখমসহ হত্যা নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল হইতে পালিয়ে যায়।
আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায় ঘটনার সময় বেকারীর মধ্যে অন্যান কর্মচারীরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার শেষ পর্যায়ে খুনি পালিয়ে যাওয়ার সময় ভিতরে অবস্থানরত অন্যান্য কর্মচারীরা দেখে ফেলে- আসামী তাদেরকে হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। বাঁশখালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই কামরুল হাসান কায়কোবাদ জানান, আসামী মাহবুবকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামী নিজেকে জড়িে বিজ্ঞ আদালতে ঘটনা সম্পর্কে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিবে মর্মে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অপরদিকে নিহতের স্ত্রী রুবি আক্তার বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে হত্যা মামলা রুজু হয়।
শাহ আলম হত্যার ১২ ঘন্টার ব্যবধানে মুল ঘাতক মাহবুবুর রহমানকে গন্ডামারা এলাকা থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মাহবুব জলদী সিন্নিপুকুর পাড় এলাকার ওসমান গণির পুত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *