মোঃআব্দুস সবুর, বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নে হলদিবাড়ী হাট জামে মসজিদে ইমামের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ১ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শাকিল হত্যার বিচারের দাবিতে মাবববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ আগস্ট) ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা হলদিবাড়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম দেলোয়ার হোসেন কোরআন হাদিসে বয়ানের সময় হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কে মুচি সম্বোধন করায় ইমামকে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ অব্যাহতি প্রদানকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার জুম্মার নামাযের পর মারপিটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: সাঈদ আলম তার স্ত্রী লাকী আকতার এবং একই এলাকার মো: বেলাল হোসেনের ছেলে মো: পলাশ আলীকে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে। উক্ত ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী থানায় শুক্রবার রাতে অভিযোগ দিলে এই অভিযোগকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত শনিবার সকাল ১১ টার সময় হলদিবাড়ী হাট ভূমি অফিসের দক্ষিণ পার্শ্বে গত ১৯ আগস্ট ও ২ সেপ্টেম্বর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্যায়ভাবে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের হলদিবাড়ী হাটের মৃত সামশুল হক (কশিরত)- এর পুত্র ও ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: সাঈদ আলমকে এলোপাথারিভাবে মারপিট করে । এতে তার ডান চোখের পার্শ্বে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। সাঈদের ছোট ভাই মো: শাকিল আহমেদ এর মাথায় আঘাত করলে মাথায় রক্ত জমাট ফুল জখম করে তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়। অধিক রক্ত ক্ষরণ হলে এক পর্যায়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায়। তাকে বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিক গেলে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । হাসাপাতালে তার অবস্থা অবনতির দিক গেলে আইসিউ তে পাঠানোর পর রবিবার ভোরে শাকিল আহমেদ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ ঘটনায় হলদিবাড়ী হাট এলাকায় রবিবার দুপুরে শাকিল ও এলাকাবাসী শাকিল হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে বালিয়াডাঙ্গী থানায় শাকিলের বড় ভাই মো: সাঈদ আলম বাদী হয়ে ৬ নং ভানোর ইউপি চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাকে প্রধান আসামী করে ২০ জনের বিরুদ্ধে একটি মারপিটের মামলা দায়ের করেছেন।

শাকিলের বড় ভাই মো: সাঈদ জানান, গত শুক্রবার মসজিদের ইমাম হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে কুটুক্তি করায় একটি ঘটনা ঘটে। মসজিদের ইমামকে বের করে দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই ইমাম হওয়ায় চেয়ারম্যান ইমামের পক্ষ নেয়। চেয়ারম্যানের লোকজন আমাদের উপর হামলা করে। চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে আমার উপর ও আমার ভাই শাকিলের উপর হামলা করে। এ হামলার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে দায়ী করেছে। তিনি আরও বলেন পুলিশ যদি প্রথম অভিযোগ থানায় আমলে নিলে, গত শনিবারের এ ঘটনা ঘটতো না। আমার ভাই মারা যেতো না।

ভানোর ইউপি চেয়ারম্যান মো: রফিকুল জানান, মারামারির সময় আমি বাসায় ছিলাম মোবাইলে থানার ওসি সাহেবের অনুরোধে আমি মারামারি ছুটাতে গিয়েছিলাম যেন কোন পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমি কাউকে মারপিট করিনি।

ভানোর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: দেলোয়ার হোসেন সিদ্দিকি জানান, প্রথমে উভয়পক্ষকে আমি সরায় দেয় এবং পরিবেশ ঠান্ডা করার পর দ্বিতীয় দফা মারামারি সম্পর্কে আমি অবগত না । প্রকৃত অপরাধীকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটছে গত পরশুদিন। ওসি সাহেব ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা ঘটতো না। পুলিশ আসতে দেরি করেছে, আগের এজাহার গ্রহণ করলে, এ হত্যাকান্ড ঘটতো না। তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম জানান, এই বিষয়ে গত শনিবার রাতে একটি মারামারির মামলা দায়ের হয়েছে এবং এই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে আসামি ধরার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Don`t copy text!