inbound6950287183618922791

আমানুল্লাহ আসিফ বিশেষ প্রতিনিধি:ঘুষ দিলেই মিলে সমাধান না দিলেই হয়রানি।এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সাউথ গারো হিলের তুরা জেলার ডালু সীমান্তের কাস্টমস অফিসে।এখানে ব্যাগ তল্লাশীর নামে বাংলাদেশী পর্যটকদের হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠেছে।কিন্তু ঘুষ দিলেই মুহূর্তেই হয়ে যায় সমাধান।বর্তমানে কর্মরত ডালু কাস্টমস কর্মকর্তা ফিরুজ হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ।

সূত্রে জানা গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি ও ব্যবসা পরিচালনাসহ যাত্রী যাতায়াতের সুবিধার্থে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্তে ২০১৫ সালে স্থাপিত হয় নাকুগাঁও-ডালু ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট।বর্তমানে এ চেকপোস্ট দিয়ে ২ দেশের আমদানী-রফতানী ছাড়াও ব‍্যাপক সংখ্যক যাত্রী ও পর্যটক পারাপার হয়।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশি পর্যটকরা নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে আসার সময় ভারতের সাউথ গারো হিলের ডালু কাস্টমস অফিসে যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশীর নামে নানা ধরনের হয়রানি করা হয়। ভারতে ডালু কাস্টমস অফিসে ব্যাগেজ রুল মেনে পণ্যসামগ্রী ক্রয় করে আনলেও হয়রানির শিকার হচ্ছে পর্যটকরা।এসময় সেখানে থাকা ইন্দ্রজিত নামেরসহ ক’জন ব্যক্তি বাংলাদেশী যাত্রীদের ওই কাস্টমসের কর্মকর্তা ফিরুজ হোসেনের সাথে কথা বলে মিটমাট করার পরামর্শ দেন।পরামর্শ মতে, ফিরুজ হোসেনের সাথে অবৈধ আর্থিক লেনদেন (ঘুষ) করে পণ্য সামগ্রী দেশে আনতে হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।ঘুষ না দিলে বৈধ পণ্য সামগ্রী আটকে দেওয়াসহ অশোভন আচরণ করেন বলেও অভিযোগ পর্যটকদের।
নিয়মানুযায়ী একজন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে ভ্রমণ করতে গেলে ব্যাগেজ রুল অনুযায়ী নিজের পরিবারের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ৪০০শ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈধপণ্য ক্রয় করে কোন প্রকার শুল্ক পরিশোধ করা ছাড়াই নিজ দেশে আনতে পারবেন।

বাংলাদেশি পর্যটক আমিরুল ইসলাম,এম সুরুজ্জামান,মিজানুর রহমান ও আল-আমীনসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন সম্প্রতি নাকুগাঁও-ডালু ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তারা ভারত ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরেন।ফেরার সময় ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজনের দেওয়া উপহার সামগ্রী তাদের সঙ্গে ছিল।এসময় ভারতের সাউথ গারো হিলের ডালু ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হয়ে ডালু কাস্টমস অফিসে এলে তাদের ব্যাগ তল্লাশী করেন ইন্দ্রজিত নামের ১ ব্যক্তি এবং ওই কাস্টমস কর্মকর্তা ফিরুজ হোসেন।তল্লাসীকালে ফিরুজ হোসেন ১ কেজির বেশি পণ্য বাংলাদেশে আনতে মানা করে তা আটকে দেয়।অনুরোধের একপর্যায়ে কাস্টম কর্মকর্তা ফিরুজ হোসেন সরাসরি ৫০০ রুপি ঘুষ দাবী করেন।দাবী অনুযায়ী ৫শ রুপি সঙ্গে না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা বাংলাদেশি ৫শ টাকা ঘুষ দিয়ে পণ্য আনেন।

জানা গেছে, অধিকাংশ যাত্রী বা পর্যটক ব্যাগেজ রুল সম্পর্কে জানেনা।আর এ সুযোগে যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেন অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ফিরুজ হোসেন। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার অফিস পিয়ন ইন্দ্রজিত।

বাংলাদেশের নাকুগাঁও স্থলবন্দরের অতিরিক্ত পরিচালক (এডি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকরা ব্যাগেজ রুল মেনে ৪০০ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈধপণ্য ক্রয়ের রশিদ দেখিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারবেন।

অভিযুক্ত ভারতের ডালু কাস্টমস কর্মকর্তা ফিরুজ হোসেনের বক্তব্য জানতে চেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটস আ্যাপে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এবিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে ভারতীয় ডালু কাস্টমস সুপার এস. শর্মার মুঠোফোনে (০০৯১ ৯২৩৩১৯১৫১৮) কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে সে কল কেটে দেন।

যাত্রী হয়রানি ও ঘুষ বন্ধে সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *