মোঃ ইকবাল মোরশেদ স্টাফ রিপোর্টার।

নোয়াখালীর চাটখিলে সন্ত্রাসী হামলায় একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় মামলার ৫ দিনেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার না করায় ভুক্তভোগী পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) সকালে চাটখিল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী পারভিন আক্তার জানান তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত সোমবার দুপুরে তিনি তার বসত ঘরের পাশের নারিকেল গাছ থেকে কাজের লোক দিয়ে নারিকেল পাড়তে গেলে স্থানীয় বিএনপির নব্য আওয়ামীলীগ নেতা বলি দুলাল বাধা দেয় এবং তারই নির্দেশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।

এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তার পরনের কাপড়-ছোপড় টেনে হিছঁড়ে ছিঁড়ে ফেলে।

তার চিৎকারে তার অসুস্থ স্বামী (যিনি চোখের অপারেশন করে গত কয়েক মাস থেকে অসুস্থ) ঘর থেকে বের হয়ে আসলে তাদের বাড়ির মোঃ সাইফুল ইসলাম,মোঃ মনির হোসেন, শাকিব, সিফাত, আরিফ, সাহেদ, শুভ সহ ১৪/১৫জন সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী তার স্বামী সামছুল আলম (জাকির) কে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি রাম-দা চেনা দিয়ে কোপাতে থাকে।

এতে তার স্বামী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তার চিৎকারে বাড়ির পাশে চা দোকানে থাকা তার দুই ছেলে মঞ্জুর ও জাহিদ দৌড়িয়ে বাড়িতে আসলে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা তাদেরও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।
পরে স্থানীয়রা তার স্বামী ও ছেলেদের চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাদের অবস্থা আশংকা জনক দেখে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরন করে।

বর্তমানে তারা নোয়াখালী সদরে একটি বেসরকারি হাপসাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় তার ছেলে মঞ্জুর কিডনিতে মারাত্মক জখম খেয়ে বর্তমানে সে অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন (০৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি বাদী হয়ে চাটখিল থানায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে তার অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। কিন্তু ঘটনার ৫ দিনে ও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। অন্যদিকে বলি দুলাল কে অভিযোগে ১নং আসামী করা হলে ও থানার পুলিশ পরির্দশক টিপু সুলতান বলি দুলাল কে ৭ নম্বর আসামী করে মামলা রেকর্ড করে।

আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামীরা ফৌজদারি অপরাধ করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার না করায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে, তাকে প্রকাশ্যে সুযোগ বুঝে ইজ্জত ও জীবনের ক্ষতি করার হুমকি ধামকি দিয়ে যাচেছ। যার ফলে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া সন্ত্রাসীরা উল্টো তাদের পরিবারের বিরুদ্বে মামলা দিয়ে হয়রানি করা এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

তাই তিনি ন্যায় বিচার প্রাপ্তির জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতায় নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

চাটখিল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ হুমায়ন কবিরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মামলায় আসামীদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.