মৌসুমী দাস, স্টাফ রিপোর্টারঃ

মুক্তিপণ দাবির টাকা ছাড়াই মুক্তি পেয়েছে সেই বাঘা সুমন আলী(২৬)। মঙ্গলবার ( মে’২৩) সকাল সাড়ে ৬ টায় নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছেন সুমন আলী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তার বড় ভাই সুজন আলী জানান, সোমবার (৮ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চট্রগ্রাম শহরে এনে ছেড়ে দিয়েছে। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামিয়ে গোপন এক জায়গায় রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। সুমন আলী বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাউসা ঠাকুরপাড়া গ্রামের আকাল আলীর ছেলে।

সুজন আলী জানান, ইতালিতে যাওয়ার জন্য শনিবার (৫ মে) সুমন আলীকে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌছে দেওয়া হয়। পরে সুমনের মুঠোফোনের ইমো নম্বর থেকে আমার (সুমনের বড় ভাই) মুঠোফোনে ফোন দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। এ টাকা না দিলে সুমনের ক্ষতি হবে বলে জানায়। মুঠোফোনে ইতালি নম্বরের পরিবর্তে বাংলাদেশি নম্বর ভেসে উঠে। পরে থানায় জিডি ও র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেন।

সুমন আলী জানান, তার গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসি ওয়াহিদ আলীর মাধ্যমে চট্রগ্রামের আবদুর রহিমের সাথে পরিচয় হয়। প্রায় তিন মাস আগে আবদুর রহিম ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। তাদের মধ্যে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন।

শনিবার ইতালির উদ্দেশ্য বাসা থেকে বের হয়ে ঢাকা বিমান বন্দরে যান। কিন্তু আবদুর রহিম তাকে ইতালি না নিয়ে চট্রগ্রাম বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে গোপন এক জায়গায় রাখে। তাকে বলে ইতালিতে পৌঁছে গেছি। চুক্তি মোতাবেক টাকা দিতে হবে। এর পর আমার ইমো নম্বর থেকে পরিবারের ফোনে কথা বলে টাকা চাইতে বলে। প্রথমে ৫ লক্ষ, পরে আড়াই লক্ষ টাকার কথা বলতে বলে। আমি বড় ভাই সুজন আলীকে ফোন দিয়ে টাকার কথা বলি।

পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দিতে না পারায় সোমবার (৮ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চট্রগ্রাম শহরে এনে ছেড়ে দিয়ে যায়। বাড়িতে আসার টাকার জন্য ভাইকে বলি। চট্রগ্রাম থেকে রাজশাহীগামী হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার টুটুল আলীর সহযোগিতায় মঙ্গলবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে পুঠিয়ায় পৌছি। সেখান থেকে পরিবারের লোকজন সাড়ে ৬টায় বাড়িতে নিয়ে আসে। প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে বুঝতে পারি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। তারা ঠিকমতো খেতেও দেয়নি বলে জানান, সুমন আলী।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছেন সুজন আলী। ডায়রিতে দেওয়া আবদুর রহিমের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

বাঘা থানার ওসি খায়রুল ইসলাম বলেন, তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি জানার পর তাকে থানায় ডাকা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don`t copy text!