টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামের অন্তত ৫০টি বাড়িঘর, ১০টি তাঁত কারখানা, গো-খামার, একটি মসজিদ ও অসংখ্য গাছপালা যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এক সপ্তাহ ধরে এ ভাঙনের তাণ্ডবে এ গ্রামের মানুষজন সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। অনেকের ঘরে খাবার নেই। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের কাছে এখনো কোনো ত্রাণ বা খাবার পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে তারকা মসজিদের ইমাম হাফেজ জহুরুল ইসলাম ও সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে এ গ্রামে ভাঙনের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। ভাঙন থেকে মসজিদটি রক্ষায় সরকারি সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি। মানুষজন কোথায় থাকে, কী খায় তার কেউ কোনো খোঁজ নেয় না। ফলে আমরা অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছি।

এ বিষয়ে মো. সাঈদী, আমীর হামজা, রেজিয়া খাতুন, মারুফ হোসেন, শাহানাজ পারভীন ও আবু তালেব বলেন, ভাঙন রোধে এখানে বস্তা ফেলা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। তাদের অভিযোগ- যেখানে ফেলা দরকার সেখানে না ফেলে এক জায়গায় বারবার ফেলা হচ্ছে। ফলে তাদের বাড়িঘর রক্ষা পাচ্ছে না। তারা সমস্ত ভাঙন এলাকায় সমমাত্রায় বস্তা ফেলার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর ওই অংশে ভাঙন রোধে বস্তা ফেলার কাজ চলছে। এছাড়া ওই এলাকার ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধের জন্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণ কাজও চলছে। এ কাজ শেষ হলে এলাকায় আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান জানান, বন্যার্তদের জন্য ৯১১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২০ লাখ টাকা এবং ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এগুলো বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পেলে সে অনুযায়ী বিতরণ করা হবে।

এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শাহজাদপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের আরও নতুন নতুন এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার কাঁচা পাট, তিল, কাউন, বাদাম, পটল ও শাকসবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।

সোমবার সকালে  সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার (পানি পরিমাপক) হাসানুর রহমান জানান, গত ১২ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি আরও ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Don`t copy text!