received 678056070880236

তরিকুল ইসলাম,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রংপুর জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে ৪৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ৩৯ জনের বৈধ হয়। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান আরও সাতজন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ১০ জন সরে যান। প্রতীক বরাদ্দ শেষে চূড়ান্ত হওয়া ৩৬ প্রার্থী এখন দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোট প্রার্থনার প্রচারণা চলবে আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ৭ জানুয়ারি (রোববার) অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে কতজন প্রার্থী, কে কোন প্রতীকে লড়ছেন, কে আছেন বিজয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে, ভোটার সংখ্যা কত, ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ কতটি- এসব নিয়ে ‘ভোটযুদ্ধের হালচিত্র। 

রংপুর-১ (গংগাচড়া ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮নং ওয়ার্ড) আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ ‘ট্রাক’, গংগচড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র আসাদুজ্জামান বাবলু ‘কেটলি’, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ ‘লাঙ্গল’, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির বখতিয়ার হোসেন ‘হাতুড়ি’, তৃণমূল বিএনপির বদরুদ্দোজা চৌধুরী ‘সোনালী আঁশ’, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির হাবিবুর রহমান ‘আম’, বাংলাদেশ কংগ্রেসের শ্যামলী রায় ‘ডাব’, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ হোসেন ‘মোড়া’ এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীনুর আলম ‘ঈগল’ প্রতীকে লড়ছেন।
আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২ হাজার ২১৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫ জন, পুরুষ ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৮২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন রয়েছে। এখানকার ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের ৬৬৬টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা।

এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ভোটযুদ্ধে এ আসনে ৯ জন নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকলেও মূলত ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘কেটলি’ ও ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) আসনে ভোটযুদ্ধে রয়েছেন তিনজন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কামাল মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’, আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্বনাথ সরকার ‘ট্রাক’ এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মণ্ডল ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে লড়ছেন।

এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৫৩, পুরুষ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৮৫ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন। দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৩৬টি ভোটকেন্দ্রের ৮১৫টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হলেও সাধারণ ভোটারদের চোখে সম্ভাবনার তীর লাঙ্গলের দিকে।

রংপুর-৩ (সদর উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৯ থেকে ৩৩নং ওয়ার্ড) আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দলীয় প্রতীক ‘লাঙ্গল’, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আব্দুর রহমান রেজু ‘একতারা’, বাংলাদেশ কংগ্রেসের একরামুল হক ‘ডাব’, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সহিদুল ইসলাম ‘মশাল’, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শফিউল আলম ‘আম’ এবং তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী ‘ঈগল’ প্রতীকে লড়ছেন।

এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তুষার কান্তি মন্ডলকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ভোটযুদ্ধে এ আসনে জিএম কাদেরসহ ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সাধারণ ভোটারদের কাছে ‘লাঙ্গল’ ও ‘ঈগল’ রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনায়।

এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার ২৯৪ জন ও পুরুষ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন। রংপুর জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটার অধ্যুষিত এ আসনের ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ১৬টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে ভোটাররা।

রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বাণিজ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি ‘নৌকা’, জাতীয় পার্টির মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল ‘লাঙ্গল’ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের সিরাজুল ইসলাম ‘ডাব’ প্রতীক পেয়েছেন। এ তিন প্রার্থীর মধ্যে নৌকা-লাঙ্গলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩০ জন, পুরুষ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের ৯৭৭টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রাশেক রহমান দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’, জাতীয় পার্টির আনিছুর রহমান ‘লাঙ্গল’, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহবুবুর রহমান ‘ডাব’, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আব্দুল হালিম মণ্ডল ‘গামছা’, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত এনামুল হক ‘চেয়ার’, সদ্য পদত্যাগ করা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার ‘ট্রাক’, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া ‘একতারা’ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের (বিএনএফ) আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ‘টেলিভিশন’ প্রতীক।

ভোটযুদ্ধে এ আসনে ‘নৌকা-লাঙ্গল-ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমানের ছেলে রাশেক রহমান এবার ‘নৌকা’ প্রতীকে লড়ছেন।

এখানকার ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের ৯৯০টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৯৮৪ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *