আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরের রাজনৈতিক অঙ্গেন ফের গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও তৃণমুলের পাশাপাশি এবার রাব্বানীর বিরুদ্ধে আমজনতা ফুঁসে উঠেছে। গোলাম রাব্বানীর ফেসবুক পেজে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা শাফিউল ইসলামকে নিয়ে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেয়ায় তার বিরুদ্ধে জনমনে এমন ক্ষোভ অসন্তোসের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপুর্বে ইউপি নির্বাচনে প্রতিটি ইউপিতে
নৌকার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল প্রতিক দিয়ে রাব্বানী তার ফেসবুক পেইজে ‘অনেক দিন মোটর সাইকেল চড়া হয়নি, এবার মোটর সাইকেলে চড়ে সেভেনস্টার থেকে লাকি সেভেন হতে চাই’ বির্তকিত এমন স্ট্যাটাস দিয়ে নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (তৎকালীন) প্রয়াত শাফিউল ইসলাম যখন গুরুত্বর অসুস্থ। মুন হোটেলে গিয়ে রাব্বানী তখন তাকে পদত্যাগ করানোর জন্য নানা কৌশলে চাপ প্রয়োগ করেছিল।
এদিকে গোলাম রাব্বানীর করা অসত্য কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে প্রয়াত শাফিউল ইসলামের ভাই কলমা ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম স্বপন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মাইনুল ইসলাম স্বপন বলেন, প্রয়াত সাফিউল ইসলামের মৃত্যুর আগে গোলাম রাব্বানী রাজশাহীর মুন হোটেলে তার কাছে মাফ চাইতে নয়, তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে পদত্যাগ করাতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাব্বানী যদি মাফ চাইতেই যেতো বা নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য ছিল তাহলে সাফিউলের মৃত্যুর ১৯ বছরের মধ্যে একটি দিনের জন্য সাফিউল ইসলামকে স্বরণ বা দলীয় উদ্যোগে তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেননি। তিনি বলেন, সাফিউলের মৃত্যুর পর থেকেই তো রাব্বানী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কখানো কি তাকে স্বরণ করেছেন করননি, এমনকি আমরা পারিবারিকভাবে মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে আসছি, তাকে জানানোর পরেও তিনি কখানো সাফিউলের কথা মনে করে তাঁর পরিবারের কোন খোঁজ খবর নেননি। এমনকি সাফিউলকে পদত্যাগ করাতে গিযে না পেরে ফিরে আসেন, এর পরেও তিনি প্রায় ৩ মাস বেঁচে ছিলেন, এই ৩ মাসের মধ্যে এক দিনও তো আপনি সাফিউলের কাছে ভুল করে হলে ২ বার আসেননি। তিনি বলেন, প্রয়াত
সাফিউল ছিলেন আওয়ামী লীগের আদর্শিক ও ত্যাগী নেতা, আমি তার ছোট ভাই আমাকে কলমা ইউপির উপ নির্বাচনে যখন নৌকা প্রতিক দেয়া হয়েছিল তখনও আপনি আপনার অনুসারীকে দিয়ে নৌকা ডোবাতে চেষ্টা করে ব্যার্থ হযেছেন। তখন কোথায় ছিলো আপনার বিবেক ও আবেগ একটি বারের জন্য হলেও সাফিউল বা আমাদের কথা মনে পড়েনি। তিনি বলেন, আপনাদের আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান, ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ও
বেঈমানী যখন সবার কাছে প্রকাশ হয়ে পড়েছে, পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে, আপনি তখনই সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পেতে আপনি প্রয়াত নেতা সাফিউলের সুনামকে পুজি করে সাংসদের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার করা আপনার সোভা পায় না, আপনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও জাত বেঈমান সেটা এই স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আবারো প্রমান করলেন। তিনি আপনি যা লিখেছেন তা সম্পুর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত আমি তানোরবাসির পক্ষ থেকে রাব্বানীর করা স্ট্যাটাসের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমার বিশ্বাস আপনি বুঝে গেছেন আওয়ামী লীগে আপনি ও আপনার পরিবারের কোনো স্থান নাই, সেই হতাশা থেকেই আপনি ১৬ জুন সম্মেলন বাধাগ্রস্ত করতে এসব প্রোপাগান্ডা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.