জুয়েল আহমেদ :
রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের আসন না পেয়ে আটকে রেখেছে রাবিতে ভর্তিচ্ছুরা। বিকাল ৪টায় ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। টিকিটবিহীন ওই যাত্রীরা পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে যাওয়ার দাবি জানিয়ে ট্রেনটি আটকে দেয়।

আজ বুধবার ২৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিট পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত ছিল। পদ্মা আন্ত:নগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিকাল চারটায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রাজশাহী স্টেশন ছেড়ে যাবার কথা ছিল। শিক্ষার্থীদের দাবি মতে ট্রেনটিতে অতিরিক্ত তিনটি কোচ সংযোগ করার পর ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রাজশাহী স্টেশন ছাড়ে।

এদিকে, পদ্মা এক্সপ্রেস অবরোধ হলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিকাল সাড়ে ৪টায় স্টেশন চত্বরে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধার্থে পদ্মা আন্ত:নগর ট্রেনে অতিরিক্ত একটি কোচ সংযোজনের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে অপেক্ষা সব শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ট্রেন যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেবেন বলেও জানান। তারপরও শিক্ষার্থীরা অবরোধ অব্যাহত রাখেন। শেষে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে তিনটি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৬টা২৩ মিনিটে অবরোধ তুলে নেন। এতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেন।

অন্যদিকে, ট্রেন অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসিফ আহমেদ, নজির উদ্দিন তালুকদার, ইবনে সিনা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার শেষদিনে গন্তব্যে যেতে স্টেশন চত্বরে আটকা পড়েন আড়াই হাজার শিক্ষার্থী। দুপুরের পর থেকে আমরা অতিরিক্ত একটি ট্রেনের দাবি করে আসছিলাম। অথবা ঢাকাগামী পদ্মা ও রাতের ধূমকেতু ট্রেনে অতিরিক্ত তিনটি করে কোচ সংযোজনের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পদ্মা আন্ত:নগর এক্সপ্রেস ট্রেনে আমরা স্ট্যান্ডিং টিকিট চাইলে কাউন্টার থেকে কোনো টিকিট দেওয়া হয়নি। তারা বিভিন্ন কোচে দাঁড়িয়ে যেতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু রেলওয়ের কর্তব্যরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাদেরকে ট্রেনে উঠতে বাধা প্রদান করেন। ফলে উপায়ন্তর না দেখে তারা পদ্মা এক্সপ্রেস অবরোধ করেন। তাদেরকে রাতের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছানো জরুরি।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তারা ঢাকাগামী বাসগুলিতে টিকিট কাটতে গিয়েও ফিরে আসেন। কোনো বাসেই একটি টিকিটও নেই। রাত পৌনে ১টায় ঢাকাগামী শেষ বাস ছেড়ে যায় রাজশাহী থেকে। আমরা সেসব বাসেও টিকিট পেলে যেতাম কিন্তু কোথাও টিকিট নেই। এখন উপায়ন্তর না দেখে তারা ট্রেনে যেতে চেয়েছিলেন। তাতেও বিপত্তি হয়। ফলে তারা অবরোধ করেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম অসীম কুমার তালুকদার ঘটনাস্থল থেকে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে কোনো সুযোগকেই বাদ দিতে চাইনি। আমাদের কোচ সঙ্কট আছে। আমি শিক্ষার্থীদের বলেছিলাম যে কোনো উপায়ে রাতের ট্রেনে তোমাদের যাওয়ার ব্যবস্থা করব। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অবরোধ অব্যাহত রাখেন। আমরাও মানবিক বিবেচনায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে পদ্মায় অতিরিক্ত তিনটি বগি সংযোগ করেছি। তাতে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বাকিরা রাতের ধূমকেতু এক্সপ্রেসে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.