জুয়েল আহমেদ :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৫ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এবারে এ, বি এবং সি তিনটি ইউনিটে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা চলবে ২৭ জুলাই পর্যন্ত।ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনে আয়োজিত ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটে কলা, আইন, সামাজিক বিজ্ঞান ও চারুকলা অনুষদভুক্ত ২৭টি বিভাগসহ শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট অন্তর্ভুক্ত আছে। ‘বি’ ইউনিটে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ৬টি বিভাগ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট এবং ‘সি’ ইউনিটে বিজ্ঞান, কৃষি, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ২৬ টি বিভাগ অন্তর্ভুক্ত আছে।রাবি উপাচার্য বলেন, রাবিতে এবছর বিশেষ কোটাসহ মোট আসন রয়েছে ৪ হাজার ৬৪১টি। এই আসনের বিপরীতে মোট ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ২৬৮টি চূড়ান্ত আবেদন জমা হয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ২৩৭ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৩৮ হাজার ৬২১ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৭২ হাজার ৪১০ জন ভর্তিচ্ছ চূড়ান্ত আবেদন সম্পন্ন করেছে। এবার একক আবেদনকারীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৪২৯ জন।পরীক্ষা পদ্ধতির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, এবারে এক ঘন্টাব্যাপী ভর্তি পরীক্ষা বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষা কক্ষের গেট খুলে দেয়া হবে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কক্ষের বাইরে যেতে পারবে না। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ও ক্যালকুলেটরসহ মেমোরীযুক্ত অন্য কোন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখা যাবে না।ভর্তি জালিয়াতির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, কখনও কখনও অসাধুচক্র ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকের নিকট ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নিয়ে থাকে। এজন্য তারা কখনও কখনও শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় কাগজপত্র জমাও রাখে এবং রেজাল্ট শিটে নাম দেখেই অর্থ দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে ঐ সকল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী নিজ যোগ্যতায় ভর্তির সুযোগ পেয়েও প্রতারণার শিকার হয়।জালিয়াতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রতারণার খপ্পরে না পড়ার জন্য সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে উপাচার্য বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ। এখানে কোন ধরনের জালিয়াতি বা কারসাজির সুযোগ নেই।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন-শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদা সজাগ আছে। এসময় ভর্তি সংক্রান্ত কোন প্রকার জালিয়াতি, কারসাজি বা অশুভ তৎপরতা সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে প্রক্টর দপ্তরকে অবহিত করার আহ্বান জানায় উপাচার্য।ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গৃহিত পদক্ষেপের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেন, ভর্তি পরীক্ষাকালীন প্রক্টর কর্তৃক ক্যাম্পাসে ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু থাকবে, অসাধু চক্রের সদস্যদের তাৎক্ষণিক শাস্তি বিধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে রাবি চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালিত একটি মেডিকেল টিম কাজ করবে এবং সার্বক্ষণিকভাবে ৪টি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.