তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর বাগমারার বাসুপাড়া ইউনিয়নের (ইউপি) সগুনা গ্রামের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী ভুমিগ্রাসী মনুসর রহমান, আব্দুল বারিক, মকবুল হোসেন, তাইজুল ইসলাম, আয়ান উদ্দীন ও শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বাইগাছা ও মধ্যদৌরতপুর গ্রামের আবু সামা মিষ্টার, মোয়াজ্জেম হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম ও বুলবুল হোসেনের বিরুদ্ধে রাতের বেলায় কৃষকদের ফসলসহ তিনফসলী জমি জবরদখল করে অবৈধ পুকুর খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত বহিরাগত লাটিয়াল বাহিনীসহ মাদকাশক্ত সন্ত্রাসী বসিয়ে এসব অবৈধ পুকুর খনন করা হচ্ছে। এদিকে কৃষকেরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দিতে গেলে পুকুর খননকারী চক্রের ভাড়াটিয়া মাদকাশক্ত সন্ত্রাসীরা বিকট শব্দ করে দেশীয বন্দুক সাদৃশ্যে ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে ধাওয়া করে। অসহায় কৃষকেরা নিরুপায় হয়ে ট্রিপুল লাইনে ফোন দেয়। ফোন পেয়ে বাগমারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্ত্ত ক্ষমতাসীন দলের মদদপুষ্ট স্থানীয় ক্ষমতাধর


হওয়ায় কারো কথাই তারা কর্ণপাত করছে না। কৃষকেরা পুকুর খনন বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্ত্ত কোনো প্রতিকার না পেয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের স্মরণাপন্ন হয়েছেন জমির মালিকেরা।


তবে অভিযুক্তরা জমি দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা যাবে না বলে কৃষিমন্ত্রণালয়ের পরিপত্র ও উচ্চআদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।


বাসুপাড়া ইউনিয়নের (ইউপি) সগুনা গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, দুবিলার ছাওয়ালকান্দা বিলে তাঁদের জমিতে তারা ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল করে আসছেন। কিন্ত্ত গত ১৮ জুন শনিবার রাতে অভিযুক্তরা তাদের লাঠিয়াল বাহীনি নিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমি জবরদখল ও জমিতে সসস্ত্র পাহারা বসিয়ে এক্সেভেটর (ভেঁকু) মেশিন দিয়ে অবৈধ পুকুর খনন শুরু করে। খবর পেয়ে রাতেই কৃষকেরা পুকুর খননে বাধা প্রদান করলে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে এবং নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে


নিরুপায় হয়ে তাঁরা বিষয়টির প্রতিকার জানিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে আবেদন করেন। তবে এখানো কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। অভিযুক্তরা রাতে কৃষকদের এসব জমিতে পুকুর খনন কাজ অব্যাহত রাখেছেন। গত কয়েক রাতে প্রায় একশ’ বিঘা তিন ফসলী কৃষিজমি ঘিরে ফেলেছেন পুকুর খননের জন্য।


অন্যদিকে একইভাবে অবৈধ পুকুর খননের কাজ শুরু করেছেন উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের (ইউপি) দুবিলায়। ওই ঘটনায় পুকুর খনন বন্ধের জন্য একই ইউনিয়নের মধ্যদৌলতপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম, নাজমুল হক, মুনতাজ আলী, রাজিয়া বিবি নামের কয়েকজন কৃষক তাদের জমি রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।


তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে এমপির নাম ভাঙিয়ে সাধারণ কৃষকদের জমি জবরদখলের মাধ্যেেম অবৈধ পুকুর খননের কাজ শুরু করেছেন। পুকুর খনন করা হলে আশপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিবে এবং চাষাবাদ ব্যাহত হবে। সুত্র জানায়, রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল জলিল সাহেব পুকুর খননের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের নিরবতা বা দুর্বলতার কারনেই চলছে অবৈধ পুকুর খনন। কোনো ভাবেই থামানো যাচ্ছে না এসব প্রভাবশালী পুকুর খননকারীদের। ব্যবস্থা নিচ্ছেন না আইন শৃংখলা বাহিনী।


অবৈধ পুকুর খননের কারনেই অধিকাংশ সরকারী খাল গুলো এসব প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। বন্যা হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন এলাকার সচেতন মানুষ। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক সুফিয়ান বলেন, তদন্ত করে অল্প সময়ের মধ্যেই ওই সকল অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Don`t copy text!