স্টাফ রিপোর্টার:নাজমুল রানা।

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় এক আতঙ্কের নাম মেহেরবাহিনী, ২০০৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের মঞ্চ ভাঙচুর সহ ২০০১ সালে লালমোহন উপজেলার সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদেরকে লাঞ্ছিত শারীরিক নির্যাতন চাঁদাবাজি ভূমি দখল ও মাদক ব্যবসা সহ বিভিন্ন অপকর্মের মূল হোতা এই মেহের ও তার বাহিনী । মেহের ভোলা-৩ আসনের বর্তমান সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের আত্মীয় হওয়ার সুবাধে ২০১১ সালের জুন মাসে এমপি শাওনের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন ফরহাদ হোসেন মেহের। এমপি শাওনের আত্মীয় সুবাধে ছাত্রত্ব না থাকার পরও লালমোহন পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয় মেহেরকে। তিনি দলীয় পদ পেয়ে আমিনুল, বেল্লাল, মামুন, চয়নদের নিয়ে গড়ে তুলেন মেহের বাহিনী। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও আত্মীয় সুবাধে পরবর্তীতে মেহের বাগিয়ে নিয়েছেন লালমোহন পৌর যুবলীগের সভাপতি পদ। মেহের লালমোহন পৌর নির্বাচনে জোরপূর্বক বল প্রয়োগ করে ১ নং ওয়ার্ডের সকল প্রার্থীকে বসিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঐ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
জানা যায়, একসময় ফরহাদ হোসেন মেহের লালমোহন উত্তর বাজারে ছোট্ট একটি দোকানে টেলিফোনের কল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে উত্তর বাজার খালপাড়ে একটি টিনের ঘরে বসবাস করতেন। দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে মেহের জমি দখল, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি সহ বিভিন্ন স্থানে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে অর্ধশত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তিনি লালমোহন পৌরসভা ১ নং ওয়ার্ডে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাতে তার কয়েক কোটি টাকার প্লট ও ফ্ল্যাট থাকার খবর জানা যায়।
এলাকাবাসী জানান, এই বছরের ২৪ জুন মেহের তার বাহিনী নিয়ে সন্ধ্যায় লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের হরিগঞ্জ বাজারের কয়েকটি দোকানে, ২৫ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়াদ হোসেন হান্নানের বাড়িতে ও একই দিন  লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের  সেরাজল হক হাং বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট চালায়। মেহের ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে দোকানে থাকা নগদ টাকা ও মালামাল এবং বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার সহ নগদ টাকা লুটের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ২০১৬ সালে লালমোহন পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড চর ছকিনাতে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র হাতে মেহের তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালায়। ভোলা-৩ আসনের জনপ্রতিনিধি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় এ ধরনের অপরাধ করলেও মেহের ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য যে, মেহেরের বিরুদ্ধে এম.পি ১৭৩/২৩ ডিবি (লাল), এম.পি ১৬৬/২৩ ডিবি (লাল), এম.পি ৫৪/২৩ ডিবি (তজু), এম.পি ১০৪/২২ সিআইডি (লাল) ও টঙ্গী থানার ১ টি মামলাসহ  এই ৫ মামলা চলমান রয়েছে। এ সকল মামলার বাদীরা মেহের ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছে না। সন্ত্রাসীরা বাড়ীর আশেপাশে বিভিন্ন সময় আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে মহরা দিচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে মেহের ও তার বাহিনীর কাছে প্রচুর আগ্নেয় অস্ত্র রয়েছে।
এদিকে সন্ত্রাসী মেহের ও তার বাহিনীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ও এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে এলাকার তৃনমুল আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা সোচ্চার হয়ে উঠেছে এবং তারা ইতিমধ্যে  ডিসি ও এসপির বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *