শাল্লা(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ হিমাংশু লাল রায় বলেছেন আমি যতটুকু দেখেছি হাসপাতালে দুর্নীতি বা অনিয়ম হয় নাই। অনেক কাগজপত্র দেখলাম। তাতে যে যে, কমপ্লেইন করেছিল, আমি দেখেছি উদ্বৃত্ত টাকাগুলো ইউএইচএফপিও সরকারি কোষাগারে ফেরৎ পাঠিয়েছেন। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ স্বাস্থ্য গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত। আমি কোথাও গেলে পরেই বুঝতে পারি কোথায় অনিয়ম হয়েছে। শাল্লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন কিছুই হয়নি। পরিচ্ছন্নকর্মীদের টাকার বিষয়ে তিনি বলেন ইউএইচএফপিওকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছি যে, ব্যক্তিগতভাবে রাজ কুমার বাবুকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করুন কেন এইটাতে তিনি সম্পৃক্ত। যদি তিনি সম্পৃক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তার এনআইডি কার্ডসহ প্রমাণ করবেন এবং কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে সমাধানও করবেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ভাইদের বলেছি, আপনারা না বুঝে কোন কিছু লিখবেন না। লিখলে আল্টিমেটলি শাল্লাবাসীরই বদনাম হবে।

তিনি আরো বলেন ৫০শয্যা বিশিষ্ট শাল্লা স্বাস্থ্য কমল্পেক্সের নতুন ভবনটি এখনো ব্যবহার করতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। তবুও সেবার মান আরো উন্নত করার কথা বলেছি। পাশাপাশি কোয়াটারে বসে কেউ প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। এটা সকাল হোক, বিকেল হোক কিংবা রাত হোক। তারপরও যদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ত্রুটি হয়ে থাকে সেটি অনভিপ্রেত। তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। ২৮ আগস্ট রোববার দুপুরে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ হিমাংশু লাল রায়। এরপূর্বে ২৭ আগস্ট শনিবার শাল্লা উপজেলার ৫০শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কম কমপ্লেক্সে নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এসেছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শাল্লা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সেলিনা আকতারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এঘটনায় স্থানীয়রা পক্ষে বিপক্ষে মানববন্ধনও করেন। এতে চরম বিভ্রান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরে ২৭জুলাই সুনামগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ আহমেদ হোসেনের নেতৃত্বে ০৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি তদন্ত করে গেছেন। সেদিন সিভিল সার্জনও বলেছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সেলিনা আকতারের বিরুদ্ধে যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেখানে অর্থ আত্মসাতের কোন ঘটনাই ঘটেনি। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ সেলিনা আকতার বলেন অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো। আমি স্বাস্থ্য কমল্পেক্সের সেবার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। কিছু স্বার্থান্বেষী লোক নিজেদের ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে এমন বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন পরিচ্ছন্নকর্মীদের নামে যে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে তা রাজ কুমার দাসের নামে। যিনি এখন দাবি করছেন তার নামে টাকা তোলা হয়েছে তিনি মূলত রাজ কুমার চৌধুরী। একজন নবাগত নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়েছেন অনেকই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Don`t copy text!