জেলা প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার ট্রেনিং শেষে আব্দুল্লাহ আল নোমান(২৩) নামের সিলেট ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক ছাত্র বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল আটকিয়ে মারপিট করে গুরুতর আহত করার পর তার সাথে থাকা টাকাপয়সা ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। আহত ছাত্র আব্দুল্লাহ আল নোমান বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের রাজঘাট গ্রামের আব্দুল কাদির নোমানের ছেলে।
এ ঘটনাটি ঘটেছে (১৩ সেপ্টেম্বর) সোমবার বিকাল সাড়ে ৩ টার সময় জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজ গেইটের সামনে বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ রাস্তায়।
এ ঘটনায় আজ(১৪ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার বিকালে আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল নোমানের মামা আব্দুল মালেক বাদি হয়ে উপজেলার পদ্মনগর(ফকিরমার) গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে অলিমান তালুকদার(৪৫), একই গ্রামের সামস উদ্দিনের ছেলে তুহিন আহমদ(২৩), সূর্য মানের ছেলে মাহিন মিয়া(২২), গিলমান তালুকদারের ছেলে হিসাম বারি(২৪) ও ওমর ফারুকের ছেলে হিমেল মিয়া(২৫) এর নাম উল্লেখ করে আরও ৬/৭ জনকে অজ্ঞাত রেখে বিশ্বম্ভরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানাযায়, সিলেট ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইলেক্ট্রিক্যাল কমিনিউকেশন ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল নোমান বিশ্বম্ভরপুর বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন কর্তৃক (টেকাব ২য় পর্যায়ে) ২ মাস ব্যাপি কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ শেষে গতকাল সোমবার বিকালে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ি রাজঘাট যাওয়ার সময় দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজ গেইটের সামনে যাওয়া মাত্রই মাদক সেবন অবস্থায় পূর্ব থেকেই উৎপেতে অলিমান, তুহিন, মাহিন, হিসাম বারি, হিমেল সহ ১০/১৫ জনের একটি ছিনতাইকারী সন্ত্রাসী গ্রুপ তার মোটরসাইকেলর গতিরোধ করে। এসময় আব্দুল্লাহ আল নোমান কোনকিছু বোঝার আগেই তাদের হাতে থাকা রাম দা, লোহার রড, হকিস্টিক ও ক্রিকেট খেলের ট্রাম্পে দিয়ে তার মাথা,পিঠ, হাত ও চোখে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে গুরুতর আহত ফেলে রাখে। এ সময় আব্দুল্লাহ আল নোমানের সাথে থাকা ৪০ হাজার টাকা দামের একটি আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ও তার বুক পকেটে থাকা ৫ হাজার ৫০০ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।
এব্যাপারে আজ মঙ্গলবার বিকালে আহত ছাত্র আব্দুল্লাহ আল নোমানের মামা আব্দুল মালেক বাদি হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ পূর্ব আরও ৬/৭ জনের নামে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

বিশ্বম্ভরপুর থানার (ডিউটি অফিসার) এসআই আতিকুর রহমান অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Don`t copy text!