ইসলাম প্রচারের বঙ্গবন্ধুর অবদান
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন উদার চেতনার অধিকারী একজন খাঁটি মুসলমান। ১৪৬৩ খ্রিষ্টাব্দে সুদূর ইরাক থেকে তত্কালে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে যে সুফিসাধক ও দরবেশরা ইসলাম প্রচারে এসেছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন শেখ আউয়াল (রহ)। এই মহান সাধকের তৃতীয় অধস্তন পুরুষ হলেন শেখ বুরহান উদ্দিন (রহ)।বুরহান উদ্দিন (রহ)-এর চতুর্থ অধস্তন পুরুষ হলেন জাতির পিতার শ্রদ্ধেয় পিতা শেখ লুত্ফর রহমান। বাংলাদেশের মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার স্বল্পকালীন শাসনকালে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং ভৌত অবকাঠামোগত পদক্ষেপ যেমন ছিল, তেমনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের কথা চিন্তা করে তিনি ইসলাম প্রচার-প্রসারে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকরী নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর দেশ গড়তে যেসব প্রতিবন্ধকতা ছিল, তার মধ্যে একটি ছিল ঘাঁপটি মেরে থাকা উগ্রবাদ। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারছিলেন যে, দেশের সরলপ্রাণ মানুষদের ধর্মের নামে কট্টপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে। তাই তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের এই দেশে, প্রতিটি সাধারণ মানুষের কাছে ইসলাম ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক এই ফাউন্ডেশনই এখন সরকারি অর্থে পরিচালিত মুসলিম বিশ্বের অন্যতম একটি বৃহৎ সংস্থা হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সদ্যস্বাধীন স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এক বিশাল সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। ইসলামের অবমাননা আমি চাই না… এ দেশের কৃষক-শ্রমিক, হিন্দু-মুসলমান সবাই সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে। স্বাধীনতার পর, প্রথমবারের মতো হজযাত্রীদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে অনুদানের ব্যবস্থা করেন বঙ্গবন্ধু। একইসঙ্গে ইসলামি আকিদাভিত্তিক জীবন গঠন ও ইসলামি শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুনর্গঠন করেন মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড। বঙ্গবন্ধুই প্রথম মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে এর নাম রাখেন “বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড”। এছাড়াও, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্বাধীনতার পরেই হাইজি, জুয়া, মদ ও ঘোড়দৌড় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুই টঙ্গীতে প্রথম বিশ্ব ইজতেমার জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। একারণে আজও ইজতেমায় আগত লক্ষ লক্ষ মুসলিম টঙ্গীতে সমবেত হন এবং দাওয়াতি কাজ পরিচালনার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ বাংলাদেশের স্থাপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অধ্যাদেশবলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখন সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি বৃহত্ সংস্থা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এযাবত্ পবিত্র কোরআনের বাংলা তরজমা, তাফসির, হাদিস গ্রন্থের অনুবাদ, রসুলে করিম (স)-এর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত ও অনূদিত গ্রন্থ, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামি আইন ও দর্শন, ইসলামি অর্থনীতি, সমাজনীতি, সাহাবি ও মনীষীগণের জীবনীসহ নানা বিষয়ে প্রায় পাঁচ হাজারের কাছাকাছি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ এ থেকে উপকৃত হচ্ছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪টি জেলায় আর্তমানবতার সেবায় ২৮টি ইসলামিক মিশন ও সাতটি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাধ্যমে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব কিছুর পেছনে রয়েছে জাতির পিতার প্রথম অবদান। তিনি এটি প্রতিষ্ঠা না করলে এসব সেবা থেকে আমরা বঞ্চিত থাকতাম। মক্কা ও মদিনায় এ হজ প্রতিনিধি দল অনুকূল সাড়া জাগাতে সক্ষম হন। নতুন স্বাধীন দেশের হজযাত্রী হিসেবে সারা মুসলিম বিশ্বের হজ যাত্রীগণের সাধুবাদ ও মর্যাদা লাভ করেন এবং পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মহল কর্তৃক অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির ফলে বাংলাদেশ এবং এ এদেশের মুসলমানদের সম্পর্কে ভুল বুঝাবুঝির অনেকটা অবসান ঘটে এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কেও অনেকের ধারণার পরিবর্তন ঘটে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন করেছিলেন। এর আগে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড স্বায়ত্তশাসিত ছিল না। তিনিই প্রথম মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করেন ও এর নাম রাখেন ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড’। বেতার ও টেলিভিশনে তার নির্দেশেই প্রথম কোরআন তেলাওয়াত ও তাফসির সম্প্রচার শুরু হয়। তাই যখন বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান শুরু ও সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় তখন আমরা কোরআন তেলাওয়াত শুনতে পাই।  বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের আমলে মাদরাসা ছাত্রদের সর্বোচ্চ শিক্ষার পাদপীঠ দীর্ঘ প্রত্যাশিত ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ শ্রেণি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করে তার পিতার ইসলামিক শিক্ষাপ্রীতিই অনুসরণ করেছেন।
রোমান মৃধা রুবেল বাংলাদেশ প্রতিনিধি প্রতিবেদক বাংলাদেশ রাষ্ট্রজননী দেশরত্ন শেখ হাসিনার তৃণমূল নেতাকর্মী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don`t copy text!