smartselectimage 2023 12 31 20 37 10

আজ ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০.০০টায় ছাত্রশিবিরের সহকারী নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ-এর সঞ্চালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলাম শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতির নাম ঘোষণা করেন। নাম ঘোষণার পর নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান ছাত্রশিবিরের প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

উল্লেখ্য যে, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, সকাল ৮টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ রাত ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে একযোগে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রশিবিরের সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি ২০২৪ সেশনের জন্য কার্যকরী পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে জাহিদুল ইসলামকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনয়ন দেন।

সম্মেলনে সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত বলেন, “জীবন একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের নাম। আর জীবনের সবকিছুই মহান আল্লাহ তায়ালার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়ার নামই সফলতা। সুতরাং সার্বিক জীবনে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল সা. প্রদর্শিত জীবনবিধান বাস্তবায়নে কুরআন ও হাদিসের ব্যাপক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি  সকল কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

ছাত্রশিবির জনশক্তিদের জ্ঞানের রাজ্যে শীর্ষে অবস্থান করতে হবে। সর্বাবস্থায় ইসলামী আন্দোলনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সাফল্যের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। যোগ্যতা ও উত্তম চরিত্রের উদাহরণ হতে হবে। মা-বাবা, পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী, দেশ ও জাতির হক আদায়ে জোর দিতে হবে। জুলুম, নির্যাতন, সুসময় বা দুঃসময় সর্বাবস্থায় ঈমানের ওপর অটল-অবিচল থাকার শপথ নিতে হবে। সর্বোচ্চ ত্যাগ মানেই পরকালে সর্বোচ্চ সফলতা। রাসূল সা. বহুবার দ্বীনের পথে শহীদ হওয়ার তীব্র বাসনা করেছেন। সুতরাং মুমিনের হারানোর কিছু নেই।”

তিনি বলেন, “রাসূল সা. বলেছেন, ‘উত্তম শাসক হলো সে, যে জনগণকে ভালোবাসে এবং জনগণও তাকে ভালোবাসে’। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণকে ভালোবাসে না আর জনগণও এ সরকারকে ভালোবাসে না। ফলে জনগণ সার্বিকভাবে নিষ্পেষিত হয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় জীবনযাপন করছে। দেশে কারো জান-মালের সামান্যতম নিরাপত্তা নেই। এজন্যই আমরা এ ফ্যাসিবাদী সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলছে এবং চলবে।”

তিনি আরো বলেন, “মানবরচিত মতবাদে পরিচালিত ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র কখনো প্রকৃত কল্যাণ ও শান্তি আনতে পারে না, তা আজ প্রতিষ্ঠিত সত্য। নির্ভুল আইন হচ্ছে আল্লাহর আইন। এ নির্ভুল বিধান এই জমিনে কায়েম করতে পারলেই জাতি প্রত্যাশিত অধিকার, কল্যাণ ও শান্তি পাবে। এজন্য আমাদের কর্মতৎপরতাকে তীব্র করতে হবে।

ছাত্রশিবির প্রমাণ করেছে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীন শক্তি ও প্রতিরোধের নাম। ফলে জাতির প্রত্যাশাও ছাত্রশিবিরের ওপর বেশি। এ প্রত্যাশা পূরণে ছাত্রশিবিরের সর্বস্তরের জনশক্তিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ছাত্রশিবির জাতিকে প্রত্যাশিত সোনার বাংলা উপহার দিতে সক্ষম হবে, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি, নব মনোনীত সেক্রেটারি জেনারেলসহ সকল পর্যায়ের জনশক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে দোয়া করেন।

নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ও সকল কর্মতৎপরতা মূল উদ্দেশ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সুতরাং ছাত্রশিবিরের সকল জনশক্তিকে আগামী বছর আত্মশুদ্ধি ও দাওয়াতের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা সেই সংগ্রামে শামিল হয়েছি, যেই সংগ্রামের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর কাছে প্রিয়। আর আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। সুতরাং সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও ত্যাগের মাধ্যমে প্রত্যাশিত নাগরিক তৈরি করে স্বপ্নের কুরআনের সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি সংগঠনের সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীল, জনশক্তি, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ দেশবাসীর নিকট দোয়া চেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *